দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাবেই এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৭ ভাগই কোনো দিন হামের টিকা পায়নি। আর প্রাণ হারিয়েছে চারশোরও বেশি শিশু। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ৬০ জনের ক্ষেত্রে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, যেসব শিশু মারা গেছে তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বয়স ছিল ৯ মাসের কম — অর্থাৎ তারা এখনো টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়নি। হাসপাতালে ভর্তির মাত্র একদিনের মধ্যে মারা গেছে ২৫ ভাগ শিশু। আর অর্ধেক শিশুকে ঢাকায় রেফার করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে — হামের টিকা দেওয়ার বয়সসীমা ৯ মাস থেকে আরও কমানো হচ্ছে না কেন? স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের ভিত্তিতে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ২০২৪ সালে এসে হামে শিশুমৃত্যু পুরো জাতির জন্য, স্বাস্থ্য খাতের জন্য এবং ব্যক্তিগতভাবে তার জন্যও লজ্জার বিষয়। তবে তিনি এও বলেছেন, এই লজ্জার দায় তাদের নয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, মৃত্যু না কমাটা তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুদের বাঁচানো যাচ্ছে না — কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং শিশুরা কেন এই গুরুতর অবস্থায় পড়ছে, তা নিয়ে তারা কাজ করছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হামে মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুও মারা গেছে। অথচ স্বাভাবিক নিয়মে হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ ও ১৫ মাস বয়সে। তবে চলমান বিশেষ টিকা কর্মসূচিতে এই বয়স কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচিতে বয়সসীমা আরও কমানো হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহিদ রায়হান জানান, টিকার বয়স ৯ মাস থেকে ৬ মাসে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এর নিচে আরও কমানো হবে কিনা, তা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হলে যেকোনো বয়সের মানুষই হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।