বর্তমানে চুলকানি ও এলার্জি একটি কমন রোগে পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর এই দিনে যখন আমাদের দেশে অতিরিক্ত পরিমাণে মাংশ সেবন করে, তখন রক্তের এলার্জির মাত্রা বেড়ে গিয়ে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।
আজ আমরা এই বাংলা ভোর অনলাই পত্রিকার মাধ্যমে বর্তমান সময়ের এই চুলাকানি রোগের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার বা বিশেষ ধরনের ঔষধ সমন্ধে সম্পুর্ন রূপে আলোচনা করে দিবো।
সারা গায়ে চুলকানির কারণ
যখন আমরা রোগের আসল কারনটি ধরতে পারি না, তখন সেটির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবন করতে পারি না। আবার যে সকল বিষয়ে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ সেগুলোও আমরা করতে পারিনা। তাই আগে আমাদের রোগ টি নির্নয় করতে হবে।
বিশেষ কিছু কারণে সারা গায়ে চুলকাতে পারে। তবে তার মধ্যে অন্যতম কিছু কারন নিচে উল্লেখ করেছি। আর বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষেরই এলার্জি জনিত সমস্যার জন্য সারা গায়ে চুলকাতে দেখা যায়। কারো কারো ত্বকে বা স্কিনে এই এলার্জির প্রভাব থাকে, আর কারো কারো এট রক্তের সাথে মেশানো থাকার কারণে সারা গায়ে চুলকাতে পারে।
মূলত যখন নিদিষ্ট কোন স্থানে চুলানি হয়, তখন সেটি বিশেষ কোন রোগের লক্ষন হিসেবে ধরা যেতে পারে, যেমন দাদ বা ইত্যাদি। তবে যদি সারা গায়েই বিভিন্ন স্থানে এলোমেলো ভাবে চুলাকাতে থাকে, তাহলে সেটি মূলত এলার্জি জাতিয় সমস্যাকেই বেশি ইঙ্গিত করে থাকে।
যে সকল বিশেষ কারনে চুলকানি দেখা যায় সারা গায়ে, সেগুলো হলোঃ
- অ্যালার্জি
- শুষ্ক ত্বক
- টিনিয়া বা দাদ
- স্ক্যাবিস বা গাল ফুঁড়ুন
- লালচে ও চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি
- রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার (ডায়াবেটিস)
- কিছু ওষুধ যেমন অ্যন্টিবায়োটিক, পেইনকিলার ইত্যাদি চুলকানি সৃষ্টি
অ্য়ালার্জি জনিত চুলকানি ভালো করার ওষুধ
যেহেতু আজকের টপিক আমাদের সারা গায়ে চুলকানি, তাই এখানে অ্যালার্জি জনিত সমস্যাটিও অন্যতম স্থানে রয়েছে। কারন অ্যালার্জি জনিত সমস্যার কারণেও সারা গায়ে চুলকানি হয়। তবে যেহেতু পোস্টের সাইজ ছোট রাখতে হবে আর এই অ্যালার্জি বিষয়ে আমাদের আগেও পোস্ট আছে, তাই এখানে বেশি কিছু বলতেছি না।
অ্যালার্জি সাধারন ভাবে একটি রক্তের সাথে থাকা বিশেষ জীবানুর ফলে সৃষ্টি হয়। এটি বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে সরিরে প্রবেশ করতে পারে, তাই এই অ্যালার্জি জনিত সমস্যা থাকলে সর্বপ্রথমেই এই অ্যালার্জি জাতিয় সকল খাবার থেকে নিজেদের আলাদা করতে হবে। তার পরেই অ্যালার্জি ভালো করার কিছু ওষুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্স করে নিতে হবে।
তাহলেই এই অ্যালার্জি জাতিয় সারা গায়ে চুলকানির রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
শুষ্ক ত্বক এর চুলকানি
অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করা বা পানির সল্পতার কারনে শরিরে বিভিন্ন স্থানে চুলকানি হতে পারে, তবে শরিরের পানি সল্পতা কমে এলে এটি স্বস্থি ফিরতে পারে। তাই এই ধরনের সমস্যা হলে শরিরের শুষ্কতা দূর করতে হবে।
এই ধরনের শুষ্ক চুলকানি বেশির ভাগ শীতকালে লক্ষ্য করা যায়। এটি সাধারনত দেহের বাহিরের অংশের মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকে, তাই এর জন্য ওষুধ শেবন না করলেও শুধু বিভিন্ন বাহিক্য ওষুধ লাগানোর মাধ্য়মে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
ছত্রাক সংক্রমণ বা দাদ
দাদ সমন্ধে প্রায় সকলেই জানে, তবে দাদের ও বিভিন্ন ভাগ রয়েছে এটি খুবই কম মানুষে জানে হয়তোবা। দাদ হচ্ছে এক ধরনের জীবানুর সংক্রমন। এটি একজনের থেকে অন্যজনের কাছে আক্রমন করতে সক্ষম। অনেক সময়ে এক স্থান থেকে অন্যস্থানেও আক্রমন দেখা যায়।
দাদ সাধারনত বিভিন্ন অপরিষ্কার পোশাকের মাধ্য়মেই বেশি ছড়ায়। তাই এটির সর্বপ্রথম চিকিৎসা হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং জীবানু নাশক বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা। তার পরে এর জন্য বিশেষ কিছু ওষুধ শেবন করা যেতে পারে, এবং বাহিক্য কিছু মলম বা ক্রিম ও লাগানো যেতে পারে। যেহেতু দাদ বাহিরে এবং ভেতরে উভয় ই অবস্থান করে থাকে।
দাদের জন্য আমাদের আগেও সুন্দর পোস্ট রয়েছে সেটি দেখে আসুন। তবে দাদ হলে নিদিষ্ট স্থানে চুলকাতে পারে, সারা গায়ে চুলকাবে না, যদি এটি সংক্রমণ না করে। আর সাধারনত এটি সারা গায়ে সংক্রমন করে না, নিদিষ্ট নিদিষ্ট স্থানেই সিমাবদ্ধ থাকে। তবে কিছু দাদ দৃশ্য়মান আবার কিছু অদৃশ্য বা চিহ্নহীন ও হতে পারে।
সারা গায়ে চুলকানি ঔষধ
সব ধরনের ওষুধ ই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। সাধারনত সারে গায়ে চুলকানি অ্য়ালার্জি বা বিভিন্ন ধরনের চুলকানি জনিত জীবানুর থেকে হয়ে থাকে। তাই এই রোগের জন্য খাবার ওষুধ ও শেবন করা জরুরি আর একই সাথে বাহিক্য ব্যবহারের জন্যেও বিশেষ কিছু ওষুধ রয়েছে।
খাবার ওষুধের ফলে রক্তের ভেতর এবং ত্বকের ভেতরের জীবানুকে ধংশ করে এবং তাদের ডিমকে নষ্ট করে থাকে। তাই খাবার ওষুধ শেবন করতে হবে। বিশেষ যে সকল খাবার ওষুধ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ
- Cetrizine (সেট্রিজিন)
- Loratadine (লোরাটাডিন)
- Fexofenadine (ফেক্সোফেনাডিন)
- Calamine Lotion (ক্যালামাইন লোশন)
- Hydrocortisone Cream (হাইড্রোকর্টিসন)
আর বাহিরে ব্যবহারের ফলে বাহিরের জীবানু ধংশ করে এবং জীবানুদের বাসস্থান নষ্ট করে। তাই বাহিরে ব্যবহারের বিভিন্ন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা যেহে পারে। তার মধ্যে লরিক্স লোশন এবং ক্রিম অন্যতম, তাছাড়াও আরো কিছু লোশন ও ক্রিম পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ
- Calak Lotion
- Calamine Lotion (Generic)
- Sarna Lotion
- Prax Lotion
- Scaboma Lotion
যেহেতু আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করি, তাই আমাদের সাইট ফলো করে রাখতে পারেন, তাহলে সবার আগে এই প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।

