পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

0
337
পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

নেপাল আজকাল একেবারে টালমাটাল। তরুণদের, বিশেষ করে জেনারেশন জি নামে যাদের ডাকা হয়, তাদের টানা আন্দোলন–বিক্ষোভে আর টিকতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়ার কথা জানাইছেন—খবর ছড়ায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে।

সব ঝামেলার গোড়া ধরলে পাওয়া যায় ফেসবুক-ইউটিউব-ইনস্টাগ্রামসহ অনেক সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সরকার বলছিলো, নিয়ম মানেনি তাই ব্লক করা লাগছে। কিন্তু তরুণরা এটাকে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা মনে কইরা রাস্তায় নেমে পড়ে। শুরুতে স্লোগান, পরে ঝাড়ু হাতে মিছিল, তারপর সংঘর্ষ—একদিনে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর আসছে। আহতও হইছে অনেকে।

কাঠমান্ডুর সংসদ ভবনের সামনে কয়েকদিন ধরে পুলিশ-জনতা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শহর অচল হইয়া পড়ে। গুলি, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট—সবই চলছিলো। শেষ পর্যন্ত সরকারের ভেতরেও চাপ বাড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর কৃষিমন্ত্রী আগে সরে দাঁড়ায়, তারপর ওলির উপরে তোপ বাড়ে বহুগুণে।

জনরোষ ঠেকাইতে সরকার বাধ্য হয় সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু তাতেও শান্তি আসে নাই। তরুণদের স্লোগান আরও তেজি হইতে থাকে—দুর্নীতি বন্ধ করো, কণ্ঠরোধ নয়।

নেপাল সরকার মোট ২৬টা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম একসাথে বন্ধ করেছিলো।

এর মধ্যে বড় বড় নামগুলা হলো

  • ফেসবুক
  • ইউটিউব
  • ইনস্টাগ্রাম
  • এক্স (আগের টুইটার)
  • হোয়াটসঅ্যাপ
  • টিকটক
  • টেলিগ্রাম

এই অবস্থা সামলানো আর সম্ভব হয়নি ওলির পক্ষে। চারদিকে সমালোচনা, রক্তপাতের দায়—সব মিলাইয়া শেষ পর্যন্ত গদি ছাড়ার পথেই হাঁটতে হলো। বিশ্লেষকেরা বলতেছেন, নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনাটা নতুন অধ্যায় লিখতে পারে।