স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে কপাল খুলল বার্সেলোনার, ফিফা থেকে মিলছে বিশাল অর্থ

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের আনন্দ এখনো তরতাজা। আর এর মাঝেই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে বয়ে যাচ্ছে দারুণ এক অর্থনৈতিক সুবাতাস। বিশ্বকাপে নিজেদের খেলোয়াড়দের লম্বা সময় ধরে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছে কাতালান এই ক্লাবটি। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ক্লাবকে পেছনে ফেলে আয়ের এই তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির ঠিক পরেই জায়গা করে নিয়েছে তারা।

খেলাধুলা বিষয়ক বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর একটি আনুমানিক হিসাব বলছে, ফিফার ‘ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম’ (CBP) ফান্ডের আওতায় বার্সেলোনা পেতে যাচ্ছে প্রায় ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার। এই তালিকায় তাদের চেয়ে এগিয়ে আছে কেবল ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। টুর্নামেন্ট থেকে তাদের সম্ভাব্য আয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৪ লাখ ডলার।

কী এই ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম?
জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য ক্লাবগুলো যখন নিজেদের খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দেয়, তখন সেই ক্ষতিপূরণ ও স্বীকৃতি হিসেবে ফিফা এই অর্থ প্রদান করে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ফিফা এই ফান্ডে মোট ৩৫৫ মিলিয়ন (৩৫ কোটি ৫০ লাখ) ডলার বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে মূল পর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকে দেওয়া হবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং বাছাইপর্বে খেলা ফুটবলারদের ক্লাবগুলো পাবে বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার।

মজার ব্যাপার হলো, কোনো জাতীয় দল বিশ্বকাপে কত দূর গেল, তার ওপর এই অর্থ নির্ভর করে না। বরং একটি ক্লাবের কতজন খেলোয়াড় কতদিন ধরে টুর্নামেন্টে ছিলেন, তার ভিত্তিতেই এই হিসাব করা হয়। খেলোয়াড় তৈরি করা, তাদের সাথে চুক্তি ধরে রাখা এবং জাতীয় দলের প্রয়োজনে তাদের ছেড়ে দেওয়ার মতো ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর অবদানকে সম্মান জানাতেই ফিফার এই দারুণ উদ্যোগ।

আর্থিক প্রাপ্তির এই দৌড়ে ইউরোপের অনেক বড় বড় ক্লাবকে পেছনে ফেলেছে বার্সা। সম্ভাব্য ৩৪ লাখ ডলার আয় করে তালিকার তিন নম্বরে আছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। এরপরেই আছে আর্সেনাল (৩৩ লাখ ডলার) এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই বা পিএসজি (৩২ লাখ ডলার)।

বিশ্বকাপে বার্সেলোনার এত খেলোয়াড়ের উপস্থিতির কারণেই মূলত তারা এত বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছে। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলেই বার্সার ৮ জন সদস্য ছিলেন, যা প্রমাণ করে টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যন্ত তাদের খেলোয়াড়দের কতটা দাপট ছিল।

তবে কেবল আর্থিক প্রাপ্তি নয়, কোচ হান্সি ফ্লিকের স্কোয়াডের এতজন খেলোয়াড়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বার্সেলোনার জন্য বিশাল এক গর্বের বিষয়ও বটে। এটি ক্লাবের খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য সক্ষমতাকেই নতুন করে প্রমাণ করে।

যদিও বার্সেলোনার মতো এত বড় একটি ক্লাবের জন্য ৩৯ লাখ ডলার খুব বিশাল কোনো অঙ্ক নয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে ক্লাবটি যে ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই বাড়তি আয়টুকু তাদের জন্য বেশ মূল্যবান। একইসাথে ইনজুরির ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পাঠানোর বিনিময়ে ক্লাবগুলোর জন্য এটি নিঃসন্দেহে দারুণ এক পুরস্কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top