রমজানের রোজা রাখার নিয়ত ও দোয়া বাংলা এবং আরবিতে

ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি অধ্যায় হলো ইবাদাত। ইবাদাতের মাধ্যমেই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব। ইবাদাতের উপরে ভিত্তি করে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জান্নত দেওয়া হবে। আর ইবাদাতের জন্য রোজা অন্যতম একটি কাজ।

রোজা রাখার মাধ্যমেই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং উত্তম ইবাদাত সম্পুর্ন করা হয়। আর বিশেষ ভাবে রমজান নামক একটি আরবি মাসকে কেন্দ্র করে মানুষ তাদের অতিতের বছরের সকল পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন ভাবে বছর শুরু করে থাকে। আর এই পুরো রমজান মাস জুড়েই পালন করা হয় রোজা।

আজ আমরা রোজার জন্য প্রয়োজনয় তথ্যগুলো শেয়ার করবো। রোজা রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূূর্ন হলো রোজার জন্য নিয়াত করা। অনকে মনে করেন রোজা রাখার জন্য সেহেরি খাওয়া গুরুত্বপূর্ন কিন্তু এই ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল। রোজা রাখার জন্য় সেহেরিতে না খেলেও চলবে। এমন কি সেহেরির সময়ে ঘুমিয়ে থকলেও কোন সমস্যা নেই শুধু উপযুক্ত নিয়াত করলেই রোজা হবে।

রোজা রাখার নিয়ত

নিয়ত, ইচ্ছা, টার্গেট, উদ্দ্যোগ, সংকল্প সবই এক জিনিস। অর্থাৎ কোন কাজ করার পরিকল্পনা করাকেই নিয়ত বলে। আরো ক্লিয়ার ভাবে উল্ল্যেখ করতে গেলে আমরা রোজা থাকবো এটি চিন্তা করাকেই রোজার নিয়ত বলে।

আপনি যদি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে মনে করেন আগামীকাল রোজা থাকবেন। কোন কারন বসত রাতে উঠে সেহেরি খেতে পারলেন না। সকালে উঠে পরে মনে হলো আপনি সেহেরি খেতে পারেন নি। কোন সমস্যা নেই তখন থেকেই রোজার মতো কাজ করতে থাকুন। তহলেই রোজা হয়ে যাবে।

তবে আরো স্পস্ট করার জন্য সকাল ১১ টা পর্যন্ত রোজা রাখার নিয়ত করা যায়। অর্থাৎ যদি আপনি রাতে এমন কোন চিন্তা নাা করে থাকেন যে পরের দিন রোজা রাখবেন। কিন্তু সেহেরি খেতে পারেন নি। সকালে (সকাল ১১ টা পর্যন্ত গ্রহনযোগ্যতা পাবে) মনে করলেন সেহেরি খেতে পারিন তবুও সারাদিন রোজা থাকবেন। তবুও আপনার রোজা পরিপূর্ন হবে।

রোজা রাখার দোয়া

রোজা রাখার ভিন্ন কোন দোয়া নেই। তবে রোজার নিয়ত শুধু মনের কল্পনার মধ্য়ে হলেও এটি আমাদের মুখে উচ্চারন করে নেওয়া ভালো। রোজার নিয়ত মুখে উচ্চরন করার জন্য হাদিসে পাওয়া বিশেষ একটি বাক্য রয়েছে যেটি আমাদের কাছে রোজা রাখার দোয়া হিসেবে পরিচিত। এই বিশেষ আরবি দোয়াটি মুখস্ত করে নিতে পারেন বা এটি বাংলাতেও উচ্চারন দেওয়া থাকবে। তবে আপনি চাইলে দোয়াটির বাংলা অর্থ বা বাংলায় এই ধরনের নিয়ত করতে পরেন তবুও আপনার রোজার নিয়ত পূর্ন হবে।

আরবিতে রোজা রাখার দোয়া বা রোজার নিয়ত

যারা আরবি পড়তে পারেন তারা আরবিতে দোয়াটি মুখস্ত করে নিতে পারেন অথবা দেখে দেখে পড়তে পারেন।

نَوَيْتُ صَوْمَ غَدٍ عَنْ أَدَاءِ فَرْضِ رَمَضَانَ هَذِهِ السَّنَةِ لِلَّهِ تَعَالَى

রোজার দোয়া বা নিয়ত বাংলায় উচ্চরণ

যারা আরবিতে পারেন না, তাদের জন্য বাংলায় উচ্চরণ দেওয়া হলো। তবে যেহেতু আরবি ভাষার সঠিক উচ্চরণ বাংলা ভাষায় পাওয়া কঠিন, সেজন্য আরবি পড়তে না পারলে সরাসরি বাংলা অর্থটি জেনে নেওয়াই ভালো। তাহলে বাংলা উচ্চারণটি স্কিপ করতে পারেন। কারন এটি একটি ভূল উচ্চারণের ফলে একটি ভুল শব্দে পরিনিত হতে পারে যেটি ক্ষতির কারন হবে।

নাওয়াইতু সৌমা গাদিন আন আদায়ি ফারদি রমাদ্বানা হাজিহিস্ সানাতি লিল্লাহি তা’আলা।

রোজার দোয়া বা নিয়তের বাংলা অর্থ

আরবি না পারলে সরাসরি বাংলা অর্থটি শিখে নিলেই চলবে। তার সাথে অনেকে রোজার নয়ত বা দোয়াটির বাংলা অর্থ জানতে চাইবে, তাদের জন্য বাংলা অর্থটি দেওয়া হলো।

আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রমজানের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

এখানে যদি রাতে খাবার খাওয়া (সেহেরি খাওয়া) সময় পড়া হয়। তাহলে এখানে আগামীকাল বলতে হবে। আর যদি সকাল ১১ টার মধ্যে যদি নিয়ত করা হয় তাহলে আগামিকালের স্থানে আজ সারাদিন উচ্চরন করতে হবে।

ইসলামিক আরো অন্যান্য তথ্য পেতে আমাদের সাইটের নটিফেকেশন চালু করে রাখতে পারেন। একই সাথে নিচের ওয়াটসঅ্যাপে ফলো করে রাখতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top