এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমার একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই আপত্তি তুলেছেন। আমি আসলে কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কথাটি বলিনি। এরপরও আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে সাধুবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
প্রসঙ্গগত, দেশের বন্যা পরিস্থিতির মাঝেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। এর প্রতিবাদে এবং মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে থেকে শুরু করে সায়েন্স ল্যাব, উত্তরা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের জেরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে বিকেলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়েও অবস্থান নেন।
পরীক্ষা না পেছানোর বিষয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
এদিন সংসদে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও পরীক্ষা না পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি-ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এটাই প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম।
তিনি বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেছি এবং তারা আমাদের জানিয়েছিলেন যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদেরও মায়া আছে, তাই আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছিলাম।”
মন্ত্রী আরও জানান, দেশজুড়ে ৬৪টি জেলার ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রথমে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়।
পরীক্ষার আগে আবহাওয়া অধিদফতরসহ আটটি বিভাগের কমিশনার, এসপি, ইউএনও এবং বোর্ড চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আবহাওয়াবিদরা বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস দেননি। কিন্তু সকালে হঠাৎ করেই যখন দেখি কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে পানি জমে গেছে, তখন সাথে সাথেই আমি ওই পরীক্ষাকেন্দ্রটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিই।