কিশোরগঞ্জে ফুটবল খেলাকে ঘিরে দুই বংশের সংঘর্ষ, আহত ১৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৩ জন। এ সময় এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া, দুলাল মিয়া, মগল মিয়া, আলাল মিয়া এবং সুমন মিয়াকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া জালাল মিয়া ও রশিদ মিয়া ভর্তি আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমনটাই জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন সেখানে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে তুলাকান্দি এলাকার বিবাহিত ও অবিবাহিত যুবকদের দুটি দলের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে সন্ধ্যায় হার-জিত নিয়ে বচসা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্থানীয়রা তখনকার মতো বিষয়টি মিটিয়ে দিলেও খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর দুটি পক্ষ স্পষ্টভাবে গড়ে ওঠে।

এর একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন নীল মিয়া ও সালাউদ্দিন মিয়া, আর অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন মোয়াজ্জেম মিয়া ও বাছির মিয়া। ওই রাতেই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন নীল মিয়াকে আটকে মারধর করে, যাতে তিনিসহ দুজন আহত হন। ঘটনার পরপরই নীল মিয়া ভৈরব থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মোয়াজ্জেম মিয়া (৫৫), সেলিম মিয়া (৪০) এবং তাঁর ছেলেকে (১৮) গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরদিন ২০ জুন আরেকটি ঘটনায় এক যুবক মোয়াজ্জেম মিয়া ও বাছির মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার জেরেই দুই পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ মিলিয়ে মোট ১৩ জন আহত হন।

এ প্রসঙ্গে নীল মিয়া বলেন, কিশোরদের তুচ্ছ ঝগড়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত, যার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তাঁকে অযথা আটক করে মারধর করা হয়েছে জানিয়ে এ বিষয়ে আইনি সহায়তা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন, দুই কিশোরের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে হওয়া মারামারির জের ধরেই শনিবার বিকেলে হঠাৎ করে দুই বংশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, এবং তিনি নিজে পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে আহত হন।

বিষয়টি নিয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, গত ১৯ জুন তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তুলাকান্দি গ্রামে ঝগড়া হলে নীল মিয়া নামের একজন থানায় অভিযোগ করেন, যার প্রেক্ষিতে রাতেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০ জুন একই বিষয় নিয়ে ফের মারামারি শুরু হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top