বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। এই মুহূর্তে ফিফার কাছে প্রাথমিক দল জমা দেওয়ার শেষ দিনে এসে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষণা করলেন তাঁর ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড। এই বড় দল থেকে বাছাই করে পরে ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করে। চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়সীমা আজ থেকে শুরু হয়ে ২ জুন পর্যন্ত চলবে। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে, শুধুমাত্র এই প্রাথমিক তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মধ্য থেকেই বিকল্প নেওয়া যাবে।
গোলরক্ষকে চমক বেলট্রান
এবারের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয়জন গোলরক্ষকের মধ্যে তিনি জায়গা পেলেও মূল দলে সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য বেশ কঠিন হবে। কারণ সামনে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসোর মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষকরা।
রক্ষণে মলিনার চোটের ভাবনা
রক্ষণ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছেন স্কালোনি। নাহুয়েল মলিনা মাংসপেশির চোটে পড়েছেন এবং সুস্থ হতে কমপক্ষে ২১ দিন সময় লাগবে। তাঁর বিকল্প হিসেবে দলে রাখা হয়েছে অগুস্তিন গিয়াওয়াই ও কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টারকে। পাশাপাশি বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো এবং হেতাফের জাইদ রোমেরোকে ডাক দিয়ে বেশ চমক দেখিয়েছেন কোচ। তবে আগের আন্তর্জাতিক বিরতিতে সুযোগ পাওয়া টমাস পালাসিওস এবার বাদ পড়েছেন।
মাঝমাঠ ও আক্রমণে নতুন মুখ
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে স্কালোনি এমন কয়েকজনকে সুযোগ দিয়েছেন যারা এর আগে কখনো জাতীয় দলের ডাক পাননি। বোকা জুনিয়র্সের মিল্টন দেলগাদো ও তমাস আরান্দা তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আরান্দাকে নিয়ে বিশেষভাবে আশাবাদী কোচ স্কালোনি, তিনি এই তরুণকে ‘অসাধারণ এক আবিষ্কার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকার পর প্রাথমিক তালিকায় ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরি। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য গিদো রদ্রিগেজও জায়গা পেয়েছেন এই বড় স্কোয়াডে। তবে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি তালিকায় থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না।
অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদেরও সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে স্কালোনি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন — শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তিনি নতুন রক্তকেও কাজে লাগাতে চান। আগামী ৩০ মে চূড়ান্ত ২৬ জনের দল ঘোষণা করতে পারে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)
ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)
মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এক্সেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রাসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)