গত ১৭ বছরে দেশে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করতে গঠিত জাতীয় গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী। এর আগের দিন, রোববার (৪ জানুয়ারি), চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তদন্তে দেখা গেছে—গুমের অভিযোগগুলোর প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে র্যাবের, এবং ২৩ শতাংশের সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআইকেও উল্লেখযোগ্যভাবে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন বলছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরীক্ষা–নিরীক্ষা বা আলামত নষ্ট করার সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে র্যাবের বিরুদ্ধেই।
কমিশনের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে সাদাপোশাকধারী বা সরকারি সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে লোকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একক অথবা যৌথ অভিযানও তদন্তে উঠে এসেছে, যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের একটি ইঙ্গিতবহ চিত্র তৈরি করে।
কমিশন জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১ জন নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত, আর ৩৬ জনের লাশ গুমের পর উদ্ধার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ৭৬৫ জন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এই প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর গৃহীত পদক্ষেপ মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে সরকারি বিভিন্ন নথি যাচাই, ভিজিট ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্বীকৃত ও গোপন মিলিয়ে মোট ৪০টি আটক কেন্দ্রও পরিদর্শন করেছে কমিশন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

