Monday, December 15, 2025
No menu items!
Homeদুর্যোগ ও দুর্ঘটনাভূমিকম্প সম্পর্কে হাদিস এবং কুরআনের সহজ ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প সম্পর্কে হাদিস এবং কুরআনের সহজ ব্যাখ্যা

- Advertisement -
- Advertisement -

সম্প্রতি বাংলাদেশে অনেক হারে earthquake বা ভূমিকম্প দেখা যাচ্ছে। স্বাধারনত আমরা তখন ই কুরআন হাদিসকে মনে করার চেষ্টা করি, যখন বিপদ আমাদের মাথার উপরে চেপে বসে। সেই সূত্রেই এখন আমরা ভূমিকম্প সম্পর্কিত হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছি।

ভূমিকম্প সম্পর্কে কুরআনের আয়াত

ভূমিকম্প সম্পর্কে কুরআনে বেশ কিছু স্থানে আয়াত রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেগুলোর সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য এখানে দেওয়া হলো

সূরা আয-যিলযাল

এই সূরায় কিয়ামাতের বিবরনে বলা হয়েছে, সেদিন মাটি কম্পন করবে এবং খুব বেশি পরিমাণে ঘন ঘন কম্পনের মাধ্য়মে মাটির মধ্য থেকে (খনিজ) সব বের করে দিবে। তার সাথে সাথে পাহাড়, সাগর সব ধ্বংশের পথে থাকবে।

সূরা আল-হাজ্জ

এই সূরায় উল্লেখিত রয়েছে, “হে মানব সকল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে এক মারাত্মক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন স্তন্যদায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। দৃশ্যত মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। মূলত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।”

অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আয়াত

আরো অনেক আয়াতের ব্যাখ্যার মাধ্যমে আল্লাহ আযাবের কথা তুলে ধরেছেন, সেই সাথে ভূমিকম্প বা বিভিন্ন দূর্যোগের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের ইঙ্গিত রয়েছে।

“আসলে আমি ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শন পাঠাই।” (সূরা বনি ইসরাঈল/আল-ইসরা: ৫৯)

“(হে নবী,) বলো, আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম।” (সূরা আনআম: ৬৫) (মুফাসসিররা ‘পায়ের নিচ থেকে আজাব’কে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ইঙ্গিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন)।

“যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।” (সূরা শুরা: ৩০)

উপদেশ

ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে এই ধরনের (ভূমিকম্প) দূর্যোগ আসলে আল্লাহ বিভিন্ন কারনে প্রেরন করে থাকেন। তার মধ্যে রয়েছে ১. সতর্কতা ২. শাস্তি ৩. পরিক্ষা

আসলে মানুষ যখন বেশি পরিমাণে অপরাধে লিপ্ত হতে থাকে, তখন আল্লাহ এই ধরনের দূর্যোগের মাধ্যমে সাবধান করেন বা শাস্তি প্রদান করতে পারেন। তাছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন উপকারের জন্য বা মানুষের আল্লাহর প্রতি ভরশার প্রমাণের জন্য এই সব দূর্যোগ আসতে পারে, যা একজন ভালো ঈমানদার এবং খারাপ মানুষের পার্থক্য তৈরি করতে সক্ষম।

ভূমিকম্প সম্পর্কে হাদিস

অনেকগুলো হাদিস রয়েছে ভূমিকম্প সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ের উপর ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে যে হাদিস বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হলো।

হাদিসের বিশেষ ভাবে শেষ জামানা (পৃথিবীর শেষ লগ্নের কথা) নিয়ে বেশি এই দূর্যোগ (ভূমিকম্প) নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কারন মানুষ ধীরে ধীরে খারাপ কাজে লিপ্ত হতে থাকবে, আর মানুষের খারাপ কাজের পরিমাণ যখন এতোই বেশি হবে যে , কোন রকমের কোন ভালো কাজ আর মানুষের দ্বারা সংঘটিত হবে না, ঠিক তখন এই কঠিন পদক্ষেপ (কিয়ামাত {বিভিন্ন দূর্যোগ, শাস্তির একটা বান্ডিল}) দ্বারা পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে।

রাসূল স. বলেছেনঃ

“ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না, যতক্ষণ না ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, সময় দ্রুত চলে যাবে, ফিতনা (বিপর্যয়) প্রকাশ পাবে এবং হারজ (খুন-খারাপি) বেড়ে যাবে”। (সহীহ বুখারীর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে)

বিভিন্ন আজাব (শাস্তি) সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যখন উম্মতের মাঝে গায়িকা, বাদ্যযন্ত্রের প্রচার এবং মদ সেবন ব্যাপক আকার ধারণ করবে, তখন ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মতো আজাব আসতে পারে। (তিরমিযী শরীফের একটি হাদিসে)

ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে হাদিসে আরও বলা হয়েছে যে, যখন অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করা হয়, আমানত খেয়ানত করা হয় এবং সুদ ও ব্যভিচার বেড়ে যায়, তখন আল্লাহ জমিনকে জীবন্ত হয়ে ওঠার অনুমতি দেন।

উপদেশ

সমাজের বর্তমান অবস্থা প্রায় এই সব হাদিসের পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। তাই বলা চলে যে হাদিসে বর্নিত এই সকল খারাপ কাজের (পাপের) জন্যই আজ আমাদের উপরে এভাবে বার বার ভয়াবাহ দূর্যোগ বা ভূমিকম্প ধেয়ে আসছে। তাই আমাদের সবার উচিৎ বার বার ক্ষমা প্রাথণা করা আর পাপ কাজ থেকে বা অপরাধ থেকে বিরত থাকা।

- Advertisement -
WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
WhatsApp Group Join Now
Google News Follow Now
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সম্প্রতি খবর

- Advertisment -