সারা দুনিয়া জুড়ে হাজার ধরনের মানুষ বসবাস করেন। শুধুমাত্র নাস্তিক ছাড়া বাকি সব ধরনের মানুষই স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে। তাই আমরা যে যে ধর্মের বিশ্বাসী হই না কেন, আমাদের স্রষ্টা তো একজনকেই মানতে হবে।
মানুষ জ্ঞান, বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে পায়
আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আর আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি তিনিই দান করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছ থেকে জ্ঞানের জন্য প্রাথনা করতে পারি, আল্লাহ আমাদের জ্ঞান শক্তি বাড়িয়েও দিতে পারেন। আল্লাহর কাছেই আমাদের ছোট থেকে বড় সব ধরেনর চাওয়া থাকা উচিৎ। আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি হয়তো আমাদের ফিরিয়ে দিবেন না বরং আমাদের জন্য অনেক অনেক বেশি সুযোগ করে দিবেন।
বিশেষ করে কোন কিছুই নিজে থেকে স্থির থাকে না, আবার কোন কিছুই নিজের থেকে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। সব কিছুর পেছনেই আল্লাহর শক্তি কাজ করে। তাই আমাদের জ্ঞানের জন্য এবং জ্ঞানের সর্বাধীক ব্যবহার পেতেও আল্লাহর কাছে প্রাথনাই একমাত্র উপায়।
সুস্থ ও শক্তিশালী ব্রেন দরকার
পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব ধরেনর কাজের জন্যই আমাদের শক্তিশালী ব্রেইনের প্রয়োজন রয়েছে। কারন ব্রেইন ছাড়া মানুষ না কিছু মনে রাখতে পারে না ভালো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই সকল চিন্তা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই আমাদের প্রয়োজন রয়েছে শক্তিশালী একটা ব্রেইন এবং ভালো সুস্থ মস্তিস্ক।
আমরা সুস্থ মস্তিস্কের জন্য আল্লহর সৃষ্টি ভালো খাবার খাই আর নিয়ম মেনে চলতে পারি। সেই সাথে আল্লাহর কাছে প্রাথনাও করতে পারি। আর দোয়া হচ্ছে প্রাথনা করার একটা মাধ্যম। অর্থাৎ আমরা দোয়া করার জন্য সময় নির্ধারন করতে পারি আবার সেই সাথে এটি কন্টিনিউ করার জন্য একটা রুটিন করতেও পারি, সেই পদ্ধতিকেই আমরা হাদিস ও কুরআনের মধ্যে পাই।
আমরা আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাই
আমরা আমাদের জীবনের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ি আবার সেই সাথে আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়ে থাকে। সেই প্রয়োজন মেটাতেই আমাদের আল্লাহর কাছে প্রাথনা করতে হয় আর সেই জন্যই আমরা বিভিন্ন দোয়া পড়ি।
আমাদের জন্য আল্লাহ এবং প্রিয় নবী স. বিভিন্ন সহজ মাধ্যম রেখে গেছেন। ঠিক সেই মাধ্যমগুলোর মধ্যেই একটা হচ্ছে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন অংশ বা দোয়া ও কালাম। এগুলো আমরা মুখস্ত করে নিতে পারি আর নিয়মিত আমল করতে পারি। আর এগুলোর মাধ্যমে আমাদের প্রাথনার সর্বধীক প্রয়োগ হয় এবং আল্লাহর কাছেও শ্রেষ্ট কিছু চাওয়া হয়।
ব্রেন ভালো হওয়ার দোয়া
বর্তমান সময়ে মানুষের চিন্তাশক্তি দূর্বল হয়ে পড়া, চিন্তাগ্রস্থ থাকা এবং দুর্বল মনস্কের হয়ে যাওয়া খুবই সাভাবিক। কারণ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা সারাক্ষন অনলাইনের বা অফলাইনে বিভিন্ন জিনিসে ব্যাস্ত থাকি, যার ফলে মস্তিস্কের সর্বচ্চ চাপ থাকে আর পরে এই ভার্সুয়ালিটি থেকে বেরিয়ে এলে আমাদের সেই রেশ কাটিয়ে নতুন কোন সাভাবিক চিন্তা মাথায় ঢুকাতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়।
অনেক সময়ে আমরা কম ঘুমাই, কম খাই আবার ঘোড়াফেরাও করতে চাই না। সেই সকল কারণেও আমাদের মস্তিস্ক অসাভাবিক অবস্থায় থাকে ফলে নতুন কিছু দ্রুত ক্যাপচার করতে পারে না।
এই সব থেকে আমাদের ইসলাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে সুস্থ করতে সাহায্য করেন। বিশেষ করে নামাজ, রোজা, সফর সহ বিভিন্ন জিনিসের জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে সময়ের প্রতি একটা বিশেষ আকর্ষিত থাকি আর আমাদের মস্তিস্ক আংশিক হলেও ককোন একটি গভীর বিষয়ের উপরে ফোকাস দেওয়া থেকে বিরত থাকে। আবার আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন দোয়া পড়ার পরেই আমাদের মনে প্রশান্তি আসে।
এখানে সয়ং আল্লাহ যেমন সাহায্য করেন তেমন ই তার বিভিন্ন মাধ্যম সাহায্য করে। যেমন এখানে সাইকোলজি ও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাত্রার বিজ্ঞান কাজ করে। এর জন্যই আল্লাহ ও তার রাসুন এই ধরনের নিয়ম কানুন শিখিয়েছেন আর দোয়া শিখিয়েছেন আমাদেরকে।
আমরা ব্রেইন ভালো করার দোয়াগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিচের দিকে উচ্চরণসহ এবং অর্থসহ লিখে রেখেছি।
رَبِّ زِدْنِي عِلْمً - রব্বি যিদনী ইলমা
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।
(সূরা ত্ব-হা: ১১৪)
اللَّهُمَّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي - আল্লাহুম্মাশরাহ লি সদরি
অর্থ: হে আল্লাহ, আমার বুক (মন) প্রশস্ত করে দিন।
(সূরা ত্ব-হা: ২৫)
এই দুই লাইনের দোয়াই আল্লাহ সরাসরি কোরআনে বলে দিয়েছেন। আর এর সাথে ইসলামিক ভাবে কিছু ভালো কাজ বা ভালো অভ্যাস করা খুবই জরুরি। আমরা সেই জরুরি নিয়মগুলোকেও নিচের দিকে তালিকা করে দিচ্ছি।
ধাপভিত্তিক আমল
আরো বিশেষ ভাবে কিছু ধাপে ধাপে আমল করতে পারেন। এগুলো অত্যান্ত কার্যকারী আমলের মধ্যেই ধরা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই আমলগুলোকে করতে দেখা যায়। এবং এগুলো অত্যান্ত কার্যকারী আমল হিসেবে বিবেচিত রয়েছে।
- অজু-গোসলের সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা
- মাঝে মাঝে নফল নামাজ পড়া
- জিকির ও দুরুদ পাঠ করা
- মনোযোগ দিয়ে আমলগুলো করা
- নিজের মতো করে আল্লাহর কাছে ব্রেইন ভালো করার জন্য প্রাথনা করা
দোয়ার সাথে সাথে করণীয়
আল্লাহ শুধু দোয়া করেই বসে থাকতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ দোয়া করার সাথে সাথে আরো বিশেষ কিছু করনীয়কে নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এটি সব ক্ষেত্রেই। যেমন নামাজ পড়ে আল্লাহ মানুষকে জমিনে ছড়িয়ে যেতে বলেছেন।
কারন আল্লাহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন মাধ্যমে সবকিছু দিয়ে থাকেন। আর সেই সাথে আমরা বলতে পারি যে, অনেক অনেক কারণে আমাদের প্রাথনা আল্লাহর কাছে পৌছায় না আবার দেরিতে পৌছায়। তবে যখন আমরা দোয়া শেষে আবার ক্লান্তিকর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তখন আমাদের শ্রমের মাধ্যমে আল্লাহ দোয়াকে উপেক্ষা করেই আমাদের মনের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং আমাদের মনের ভাব ও মনের বাসনা অনুযায়ী আমাদের বিভিন্ন জিনিস দান করে থাকেন।
এজন্য আমাদের উচিৎ দোয়ার সাথে আরো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা। এর জন্য বিশেষ করে আমাদের উচিৎ দোয়ার সাথে আরো কিছু বিষয়ে ভালোভাবে খেয়াল রাখা।
- নিয়মিত ঘুম (বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন মাত্রায় ঘুমানো)
- অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার কমানো
- কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করা
- হালাল ও পুষ্টিকর খাবার
- দোয়ার সাথে চেষ্টা করা (বিভিন্ন খাবার খাওয়া বা নিয়ম মানা)

