সুপার শপ হচ্ছে এমন এক ধরনের শপ বা দোকান, যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পন্য একই সাদের নিচে পাওয়া যায়। সুপার শপ এর আরেক নাম চেইন শপ, এই চেইন শপ নামেও রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। এটি বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বেই দিন দিন জনপ্রিয়তা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা আজ সুপার শপ এর বিশেষ কিছু তথ্য শেয়ার করবো, যেখান থেকে আপনারা সহজেই জানতে পারবেন সুপার শপ এর বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞাপন কিভাবে দেখতে পারবেন আর সেখানে জয়েন করতে হলে কি কি করনীয়।
সুপার শপ
সুপার শপ বা চেইন শপ হচ্ছে একই সাদের তলায় নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করার একটি বিশেষ মাধ্যম তাছাড়াও এখানে দিন দিন পন্যের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেগুলো ন্যায্য মূল্যে কোন প্রকারের দামাদামি ছাড়াই সভ্য ভাবে ক্রয় করা যায়। তাছাড়াও এই সুপার শপ এ রয়েছে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ এবং পন্য কিনে ঠকে যাওয়ার কোন প্রকারে সম্ভবনা নেই, ফিক্সড রেটেই ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সুপার শপ কোম্পানি রয়েছে প্রায় ১০ টিরও বেশি। তার মধ্যে আমরা অন্যতম কিছু সুপার শপ কোম্পানির তালিকা আপনাদের সুবিধার জন্য দিতে পারি, ফলে আপনারা ক্যাটাগরি বিবেচনা করে খুব সহজেই সুপার শপের আরো কোম্পানি চালু হলে বা থাকলে সেগুলো চিনে নিতে পারবেন।
- স্বপ্ন
- আগোরো
- মীনা বাজার
- ডেইলি শপিং
- ইউনিমার্ট
- প্রিন্স বাজার
- মেট্রো মার্ট
- বেস্ট বাই
এভাবে এই কোম্পানিগুলো সারা দেশ জুড়েই বিস্তার করে আছে, তাদের প্রায় সকল বড় শহড়েই একাধীক ব্রান্স বা শাখা রয়েছে, এই শাখাকে আবার আউটলেট নামেও পরিচিত করা হয়।
এই কোম্পানির গুলোর প্রায় কয়েক হাজার আউটলেট রয়েছে সারা দেশ জুড়ে, আমরা স্পেসিফিক ভাবে সেগুলো নিয়েও কথা বলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পোস্টে চেষ্টা করবো।
সুপার শপে কি ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়
বর্তমানে বাংলাদেশের সুপার শপে প্রায় ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজারের মতো পন্য পাওয়া যায়। এবং ক্যাটাগরি ভেদে প্রায় অনেক ক্যাটাগরির ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনীয় পন্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিউটি, খাদ্য সামগ্রী, মশলা-তেল, মাছ-মাংশ, বেকারীসহ বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য সমগ্রী এবং নিত্য প্রয়োজনীয় ছোট খাটো ব্যবহারয্য আসবাবপত্র এবং চকলেট-বিস্কুটও পাওয়া যায়। তাছাড়াও কাস্টমারের চাহিদা পূরন করার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ফাস্ট-ফুডের ও দেখা পাওয়া যায়।
ইন্টারভিউতে প্রশ্ন আসতে পারে যে কি ধরনের পন্য সামগ্রী পাওয়া যায় বিভিন্ন সুপার শপে, তাহলে আপনার জন্য আরো উপকারী উত্তর হতে পারে যদি আপনি মৌলিক সংঙ্ঘার সাথে কিছু ক্যাটাগরির নামও উল্লেখ করে দিতে পারেন।
- শস্য জাতীয় (ডাল, আটা, ময়দা, সুজি) তেল ও মসলা
- চিনি ও লবণ
- শাক-সবজি (২০-৩০ রকমের দেশি ও বিদেশি সবজি)
- ফলমূল (মৌসুমি দেশি ফল এবং আমদানিকৃত বিদেশি ফল)
- মাছ ও মাংস
- দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাবার
- ত্বকের যত্ন (সাবান, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, লোশন, ক্রিম) ওরাল কেয়ার (টুথপেস্ট, ব্রাশ, মাউথওয়াশ) স্যানিটারি পণ্য
- ডিটারজেন্ট, ডিশওয়াশার, ফ্লোর ক্লিনার, টয়লেট ক্লিনার প্লাস্টিক ও ক্রোকারিজ
- ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস (বাসা বাড়ির প্রয়োজনীয়) শিশু ও বেবি কেয়ার বেকারি ও স্ন্যাকস
বি.দ্র. সুপার শপের আকার, এড়িয়ার চাহিদা অনুযায়ী এই পন্যের পরিমাণ কম বেশি হয়ে থাকে।
সুপার শপ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
যেহেতু এই সুপার শপের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে সেই সাথে আবার মানুষ এই ধরনের সুপার শপের সাথেও সম্পর্কিত হচ্ছে তাই জব সেক্টরেও রয়েছে এনাদের বিশেষ পরিমাণে নিয়োগ। যা প্রায় বছরের সব সময়েই কম বেশি পরিমাণে দেখা যায়। বিশেষ করে নতুন নতুন পন্য যুক্ত করা, নতুন নতুন আউটলেট তৈরি করা এবং পুরোনো কর্মচারিদের কাজ থেকে অব্যহৃতির ফলে এই নিয়োগের সার্কুলার প্রায় সারা বছরেই পাওয়া যায়।
তবে এখানে জব করার জন্য আপনাকে অবশ্যই সেখান কার সকল নিয়ম কানুন মেনেই তবে সেখানে আবেদন করতে হবে। আমরা বিশেষ কিছু নিয়ম কানুনের সাথে সার্কুলার সমন্ধেও তথ্য দিয়ে দিবো।
সার্কুলার দেওয়া হয় কোথায় ও কিভাবে সেটি সমন্ধে কথা বলতে গেলে, এই ধরনের সুপার শপে যেহেতু অনেক পরিমাণে মানুষ কাজ করতে চায়। এজন্য এখানে অনেক বেশি পরিমাণে নিয়োগ দেওয়া হলেও আসলে সেটি সবাই তেমন বেশি পরিমাণে প্রচার করার সুযোগ হয় না। ফলে আপনাকে খুজে বের করতে হবে এই নিয়োগ সার্কুলারগুলো।
- আপনি সরাসরি আউটলেটে গিয়ে কথা বলতে পারেন, তারা অবশ্যই আপনাকে সেখান থেকে তাদের সার্কুলার সমন্ধে জানিয়ে দিবে।
- কোম্পানির অফেসিয়াল বা আউটলেটের বিভিন্ন সোস্যাল প্রফাইলে বিজ্ঞাপন
- আউটলেটের সামনে বিভিন্ন সময়ে পোস্টার বা ব্যানার টাঙানো
- সম্ভব, বিডি জব ও অন্যান্য জব সার্কুলার এর অ্যাপ ও ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া যায়
এর পরে আপনি এই সকল মাধ্যম থেকে যখন সার্কুলার পর্যন্ত পৌছাতে পারবেন, তখন আপনার কাছে আসতে চলেছে যে আপনি আসলে কোন পদের জন্য বিট করতে চলেছেন। ( আমাদের মতামতে আপনি আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ নির্বাচন করুন। এর বাইরে করতে গেলে চাকরির জন্য সিলেক্টেড ও না হতে পারেনা আর নিম্ম পদে জয়েন করলেও ধীরে ধীরে আপডেট হতে থাকবেন)
- কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ
- ক্যাশিয়ার
- সেলসম্যান
- ইনভেন্টরি
- ডেলিভারি ম্যান (ক্ষেত্র বিশেষ)
- ক্লিনার (বড় আউটলেটের জন্য)
সাধারনত এই সকল পদেই নতুনদের নিয়োগ দিয়ে থাকে, এর উপরস্ত পদের জন্য আপনাকে ধীরে ধীরে উন্নতি করতে করতে যেতে হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই সকল পদে আপনাকে ৮০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারন করা হয়। আর খাবার খরচ ও থাকার করচ আপনার ব্যাক্তিগত থাকবে। দুই ঈদে বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা প্রদান করেন, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৬০-৭০ শতাংশ বোনাস প্রদান করা হয়।
জয়েন করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি তেমন বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। এনআইডি বা জন্ম সনদের ফটো কপি, বাবা অথবা মায়ের আইডি ফটোকপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনির আইডি কার্ডের ফটোকপি, সিভি, এবং কয়েকটি সদ্য তোলা ফটো।
আপনাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হতে পারেষ এবং সেখান থেকেই আপনাকে জিঞ্জেস করা হবে যে আপনি আসল কোন আউটলেটে জয়েন করতে চান। তখন আপনার উচিৎ হবে আপনার কাছাকাছি কোন আউটলেটে যুক্ত হওয়া যাতে করে আপনার যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোন ধরনের কোন সমস্যা না হয়।
সাধারন প্রশ্নের তালিকায় তেমন কিছু থাকে না। থাকতে পারে আপনার বেসকি তথ্যাদিঃ
- আপনার সমন্ধে কিছু বলুন (আপনার নাম, জন্ম ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, বর্তমান পড়াশোনা, আগের বিশেষ পড়াশোনা, কাজের দক্ষ্যতা (যদি এই টপিকের উপরে কোন কাজ করে থাকেন, সেটি আগে তুলে ধরবেন))
- আইকি চেক করার জন্য ছোট খাটো কোন প্রশ্ন আসতে পারেে (আমাকে জিঞ্জেস করা হয়েছিল যে আজ সকালে ভূমিকম্প হয়েছিল কিনা, আসলে তার আগের দিন সকালে হয়েছিল সামান্য পরিমাণে। আমি বলেছিলাম যে না স্যার আজ তো হয়নি, গতকাল হয়েছিল।) পরে বলল কত মাত্রায় হয়েছিল, আমি বলেছিলাম যে স্যার সেটি সঠিক জানি না তবে খুব ই কম মাত্রায়, এমন কি আমি টের ও পই নি। আমি শুধু অ্যাপ থেকেই নটিফাই পেয়েছিলাম।
- আপনি কেন এখানে জব করতে চান- আসলে স্যার জীবনে কিছু তো করতেই হবে, এটি একটি ভালো সেক্টর তাই আমি এখানে যুক্ত হচ্ছি।
- কেন মনে হচ্ছে এটি ভালো সেক্টর- আসলে এদিকে ঝামেলা ছাড়াই কাজ করা যায়। আর বিশেষ করে ধীরে ধীরে উন্নত করা যায়।
- আপনি যদি অন্য কোথাও পড়াশোনা করেন, তাহলে এটি কেন বেছে নিচ্ছেন- আসলে আমি ক্যারিয়্যারের প্রাথমিক ধাপে এটাকে পছন্দ করেছি, আশা রাখি ভালো কিছু করতে পারবো। যদি এখানে ভালো কিছু করতে সক্ষম হই, তাহলে কেন অন্যত্র যাবো স্যার।
- এবাবে আরো কিছু থাকতে পারে, যা খুবই বেসিক
- বিশেষ করে যে ব্রান্ডের সাথে কাজ করতে চান, সেটির সমন্ধে জেনে জেতে পারেন, যেমন কত সালে কোথায় শুরু করে, কি কি পন্য আছে, কতটি আউটলেট আছে ইত্যাদি।
তবে ইন্টারভিউতে কখনোই ভয় পাওয়া ঠিক নয়। এটি সম্ভবনাকে হারিয়ে দেয়। তাই উচিৎ হচ্ছে তাদের সাথে মিশে গিয়ে ভালো ভাবে নির্ভয়ে হাসির সাথে কথা বলা।
সাধারনত স্বপ্ন, মেট্রো মার্ট এর মতো কয়েকটি কোম্পানি সরাসরি আউট লেট থেকেই যুক্ত হতে সাহায্য় করে, তবে বাকিরা তাদের হেড অফিসে নিয়েই ইন্টার ভিউ নেয়। তবে ঢাকার বাইরে হলে উচিৎ হবে সেখানে আউটলেট ম্যানেজারের সাথে কথা বলে সঠিক তথ্যটি নেওয়া। কারন ঢাকায় আসা বোকামি হবে।
প্রায় অনেক গুলো সুপাার শপের হেড অফিস ঢাকার মহানগরে রয়েছে, তাই আপনি চাইলে সেগুলো একসাথে আবেদন করে একদিয়ে একাধীক ইন্টারবিউ দিতে পারেন।

