ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা: ‘ক্ষয়িষ্ণু ইউরোপ এবং দুর্বল নেতৃত্বই ইউক্রেন সংকট বাড়াচ্ছে’

0
67
ট্রাম্প ইউরোপ সমালোচনা
ট্রাম্প ইউরোপ সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন যে, মহাদেশটি “ক্ষয়িষ্ণু” হয়ে পড়ছে এবং এর নেতারা আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় দুর্বল ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

রাজনীতি বিষয়ক পত্রিকা পলিটিকো–কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। তার মতে, পশ্চিমা শক্তিগুলো শুধু যুদ্ধ চলতে দিচ্ছে, ফলে কিয়েভকে ‘পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই’ করার মতো অবস্থায় রাখা হয়েছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা দ্রুত সমাধানের পথে হাঁটলে তা মহাদেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার জানান, তিনি ইউরোপের মধ্যে দুর্বলতা নয় বরং “শক্তির প্রতিচ্ছবি” দেখেন। কুপারের মতে, প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ় অবস্থানেরই প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—দুজনই শান্তির জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে জেলেনস্কি শান্তিচুক্তির পথে “বাধা” সৃষ্টি করছেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা রাশিয়া ইতোমধ্যে “মেনে নিয়েছে”, যদিও এতে ইউক্রেনকে বড় ছাড় দিতে হবে বলে ধারণা করা হয়।

জেলেনস্কির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও ইউরোপ যুদ্ধ বন্ধের সব সম্ভাব্য উপাদান নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শিগগিরই পাঠানো হবে।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক চাপ

রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেনে ‘মার্শাল ল’ জারি থাকায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের শঙ্কা

ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, মতাদর্শগত বিভাজন পশ্চিমা জোটকে দুর্বল করছে এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে বসেছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে তিনি বলেন, “হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড ভালো করছে, কিন্তু বাকি ইউরোপ তলানিতে পৌঁছেছে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালায় ইউরোপের ‘সভ্যতাগত পতন’ নিয়ে যেসব সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, তা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ আংশিক সমর্থন করলেও বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য হিসেবে দেখছেন।

ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র ও অভিবাসন নীতি নিয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং এসব বিষয়ে আমেরিকার তত্ত্বাবধান প্রয়োজন নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here