এনরিককে আজীবন চুক্তিতে বাঁধতে চায় পিএসজি? ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন

0
121
এনরিক আজীবন চুক্তি পিএসজি
এনরিক আজীবন চুক্তি পিএসজি

প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের নাম এখন লুইস এনরিকে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও যে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ফরাসি জায়ান্টরা, সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ পেয়েছে স্প্যানিশ এই কোচের হাত ধরে। ইউরোপ সেরা হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা এতদিন অধরাই ছিল, এনরিকের নেতৃত্বেই শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করেছে Paris Saint-Germain।

এনরিকের সাফল্যে দারুণ সন্তুষ্ট পিএসজি কর্তৃপক্ষ এবার নিতে পারে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম Diario AS–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী এই কোচকে আজীবনের জন্য ক্লাবের সঙ্গে বেঁধে রাখতে চায় ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। প্রস্তাবিত এই চুক্তিকে ফুটবল বিশ্বে ‘ঐতিহাসিক আজীবন চুক্তি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে এনরিকের সঙ্গে পিএসজির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তবে সেই সময়ের অপেক্ষা না করেই নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবছে প্যারিসের ক্লাবটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছেন এবং এনরিককে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান।

২০২৩ সালে তৎকালীন কোচ ক্রিস্তোফ গালতিয়েরকে বরখাস্ত করে এনরিককে দায়িত্ব দেয় পিএসজি। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে ক্লাবটির গল্প। গত মৌসুমে তার নেতৃত্বেই ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পায় পিএসজি। শুধু তাই নয়, ২০২৪–২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ‘ট্রেবল’ জয়ের অনন্য কীর্তিও গড়ে তারা।

২০২৫ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব Flamengo-কে হারিয়ে ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল ট্রফি জেতাও ছিল এনরিক যুগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। সব মিলিয়ে ওই বছর ছয়টি শিরোপা ঘরে তোলে পিএসজি—যে কীর্তি এর আগে ইউরোপে গড়েছিল কেবল Barcelona ও Bayern Munich।

পরিসংখ্যানও এনরিকের সাফল্যের পক্ষে কথা বলে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪৩ ম্যাচে পিএসজির ডাগআউটে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৯৮টি জয়, ২৬টি ড্র ও ১৯টি হার—জয়ের হার ৬৮.৫৩ শতাংশ।

এতসব সাফল্যের পর এনরিক এখন পিএসজির ‘চোখের মণি’। ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এই কোচকে ধরে রাখতে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত আজীবন চুক্তির পথে হাঁটে কি না পিএসজি—সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় কৌতূহল।