ভারতের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বড় ধরনের জয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস–আরজেডি জোটের সব হিসাব উলটে গেছে। প্রায় সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে এনডিএ দুই শতাধিক আসন দখল করে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইঙ্গিত দিয়েছেন—বিহারের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রও তৈরি করে দেবে।
২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২২ আসন। প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর ১২১টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ নভেম্বর বাকি আসনগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ।
সব পূর্বাভাস ভুল, নীতীশ–বিজেপির জোয়ার**
ভোট–পরবর্তী সমীক্ষাগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তব ফল পুরো উল্টো। কোথাও ১৩০ বা ১৬৭ আসনের মতো অনুমান থাকলেও এনডিএ পেয়েছে সর্বশেষ তথ্যে ২০২ আসন। বিপরীতে মহাজোট গড়া আরজেডি পেয়েছে মাত্র ৩৫ আসন, আর অন্য দলগুলো পেয়েছে ৬ আসন।
দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পরও নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান যে এখনো শক্ত অবস্থানে—এবারের ফলাফল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এনডিএর জয়ে উচ্ছ্বসিত মোদি, এবার নজর পশ্চিমবঙ্গে
বিহারের ফল ঘোষণার পর দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরে কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন,
“বিহারের জয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পরিবর্তনের পথে মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিহারের ফল বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নারীর নিরাপত্তা, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা সংশোধন—এমন নানা ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি।
বিতর্কও কম নয়: ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় ৪৭ লাখ নাম
বিহার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। অভিযোগ ছিল—৪৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে এনডিএকে সুবিধা দেয়া হয়েছে। ফল ঘোষণার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে “ভোট কারচুপির” অভিযোগ তোলেন।
আগামী নির্বাচনে বিজেপির নতুন আশা
আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, পদুচেরি ও আসামে নির্বাচন সামনে রেখে বিহারের ফল বিজেপিকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি
