চিড়া কি, এটি একটি শহর মুখী প্রশ্ন। শহরে এমন অনেকেই থাকতে পারে যারা আসলে চিড়া চিনেন ও না। তাদের জন্য চিড়ার পরিচয়টাও দেওয়া উচিৎ। তাই আমরা একেবারে বেসিক থেকে সকল প্রকারের তথ্যই এই পোস্টে শেয়ার করে দিব।
চিড়া হচ্ছে বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। চিড়া মূলত গ্রাম অঞ্চলের ঘড়ে ঘড়ে দেখা যায়। এটি মূলত শুকনো ধানের মাধ্যমে তৈরি করতে হয়। এটি প্রথমে পরিষ্কার ধান নিতে হয় এবং সটি প্রস্তুত মনে হলে ঢেকি বা মেশিনের সাহায্যে চ্যাপ্টা করা হয়। এবং এই সময়ে ঝেড়ে ঝেড়ে ভেতরে থাকা ধানের খোশাকে অপসরণ করা হয়। ফলে শুধু চালের চ্যাপ্টা অংশটি থাকে। চালের এই চ্যাপ্টা অংশকেই চিড়া বলা হয়।
চিড়া কত প্রকারের
সাধারনত চিড়ার কোন প্রকারভেদ নেই। তবে ধানের যেহেতু অনেক প্রকারভেদ পাওয়া যায়, তাই এই ধানের নামের সাথে চিড়ার নাম তৈরি হয়। সাধারনত বাজারে বেশ কয়েক ধরনের চিড়া পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে।
- লাল চিড়া
- সাদা চিড়া
- পাতলা চিড়া
- মোটা চিড়া
এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধানের কারনে আকার, স্বাদ, পুষ্টিমান ও রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। তাই আমাদের প্রয়োজন মতো ভিন্ন ভিন্ন চিড়াকে আমরা সহজে বাজার থেকে খুজে নিতে পারি। এই চিড়ার নাম বললেই আপনি সঠিক চিড়ার নিকটে পৌছাতে পারবেন খুব সহজে।
চিড়া খাওয়ার উপকারিতা
স্পেসিফিক ভাবে ভিন্ন ভিন্ন চিড়ায় কিছুটা ভিন্ন স্বাদ ও উপকারিতা পাওয়া গেলেও প্রায় সকল প্রকারের চিড়ার কিছুটা কমন উপকারিতা পাওয়া যায়। এই অংশে আমরা চিড়া খাওয়ার উপকারিতা সমন্ধে জানতে পারি।
- ক্ষুধা নিবারন (এটি পচনশীল না হওয়ায় এই খাবার কেয়ারি করা বা সংরক্ষন করা অনেক সহজ)
- সহজেই প্রস্তুত করে খাওয়া যায়
- অল্প পরিমাণে খেতে পারলেই পেটে গিয়ে ফুলে বেড়ে যায়
- প্রচুর পরিমাণে সর্কারা বা ক্যালোরি উৎপন্ন করতে পারে
- আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্ত সল্পতা কমিয়ে আনে
- ফ্য়াট না থাকায় এটি ওজন ও মেথ নিয়ন্ত্রণ করে
- এটি এলার্জি ও অন্যান্য কমন রোগীদের উপযোগী খাবার
আরো বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে চিড়া খাওয়ার মাধ্যমে। যেমন রোজা রেখে সন্ধায় দই চিড়া খাওয়ার মাধ্যমে দেহের পানির প্রোয়োজনীয়তা এবং প্রয়োজনীয় সর্কারা পাওয়া যায়। তবে বিশেষ করে লাল চিড়ার কথা আপনারা অনেক সময় হয়তো শুনে থাকবেন। লাল চিড়ার উপকারিতা কি সেটিও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করে দিলাম।
লাল চিড়া খাওয়ার উপকারিতা
সাধারনত সকল চিড়াই উপকারী, তবে লাল চিড়া যেহেতু একটু স্পেশাল চালের মাধ্যমে বানানো হয়, তাই সেই চালের বিশেষ গুনাগুন এই লাল চিড়ার মধ্যে পাওয়া যায়। বিশেষ যে উপকার করে লাল চিড়াঃ
- উচ্চ ফাইবার (আঁশ)
- হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
- ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ
- রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
- অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
- ফাইবার বেশি থাকায় এটি খেলে অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না
ক্ষুধা নিবারন (এটি পচনশীল না হওয়ায় এই খাবার কেয়ারি করা বা সংরক্ষন করা অনেক সহজ)
সহজেই প্রস্তুত করে খাওয়া যায়
অল্প পরিমাণে খেতে পারলেই পেটে গিয়ে ফুলে বেড়ে যায়
প্রচুর পরিমাণে সর্কারা বা ক্যালোরি উৎপন্ন করতে পারে
আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্ত সল্পতা কমিয়ে আনে
ফ্য়াট না থাকায় এটি ওজন ও মেথ নিয়ন্ত্রণ করে
এটি এলার্জি ও অন্যান্য কমন রোগীদের উপযোগী খাবার

