খুশকি বাংলাদেশের মানুষের একটা প্রধান সমস্যা, এই সমস্যায় প্রায় বাংলাদেশের ৯০ সতাংশ মানুষ ই জীবনের একটা সময়ে সম্মুক্ষীন হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ঋতুর পরিবর্তন, বাতাসে মিশে থাকা ক্ষুদ্রতম বালু কনা এবং উষ্ণ বাতাসের ফলে এই ধরনের সমস্যা হয়। তাই আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমরা এর একটা সহজ সমাধানে নিয়ে আসা।
কি কি উপায়ে এই খুশকির মতো সমস্যা সমাধান করতে পারবেন এবং এটি সমাধান করার কি কি মেডিসিন আছে আর কি কি শ্যাম্পু আছে সেগুলোই আপনাদের সাথে আলোচনা করবো আবার আমরা আপনাদের জানিয়ে দিবো যে যে কারণে মাথায় খুশকি হয়, সেগুলো ও উপস্থাপন করবো , তাহলে আপনারা সেই সকল কাজ এড়িয়ে চলতে পারেন ফলে এটি ভবিশ্যত এর জন্য নিরাপত্তা বলেও বিবেচিত হবে।
খুশকি কি
খুশকি হলে মাথায় থাকা এক ধরনের ময়লা, যেটি মাথার শুষ্ক ত্বকের থেকে তৈরি হয়, এটিকে অনেকে মাথার ত্বকের মরা অংশ নামেও চিনে থাকেন। সাধারন ভাবেই আমাদের ত্বকের উপরের অংশ একটা সময়ে মরে যায় বা শুষ্ক হয়ে উঠে যায়। তবে এটি অতি সামান্য হওয়ায় এটি তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। কোন কোন কারণে এই প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত হয়ে থাকে, ফলে তা বেরিয়ে না গিয়ে মাথার মধ্যেই জমে যেতে শুরু করে আর নিচের অংশটি ঢাকা পড়তে থাকে ফলে মাথায় নাড়াচাড়া দিলে বা চিড়ুনি ব্যবহার করলে এটি বেরিয়ে আসে।
মাথায় কেন খুশকি হয়
সারা শরিরেই নির্দিষ্ট পরিমাণে শুষ্ক ত্বক বা মরা চামড়া ওঠে, তবে সেটি অতি নগন্য হওয়ায় জমতে পারে না, সাথে সাথে ই উড়ে যায় বা সরে যায়। কিন্তু খুশকির ব্যপারটা হচ্ছে অতিরিক্ত পরিমাণে মরা চামড়া ওঠায় বা শুষ্ক ত্বক হওয়ায় সেটি উড়ে যাওয়া বা ঝড়ে যাওয়ার মাণের থেকেও অনেক বেশি পরিমাণে হয় ফলে তা জমে থাকে।
তবে এই অতিরিক্ত খুশকি বা মরা চামড়া ওঠার বিশেষ কিছু কারণ সমনে আসে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যে কারণগুলো উপলব্ধ আছে সেগুলো হলোঃ
- ম্যালাসেজিয়া (এক ধরনের ছত্রাক)
- সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (ত্বক বেশি তৈলাক্ত হলে এই সমস্যা দেখা যায়)
- মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া
- মাথায় ময়লা জমে গিয়ে উপরের মরা চামড়া আটকে থাকলে
- মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাস (যা এই ধরনের সমস্যা হতে বিভিন্ন ভাবে দ্বায়ী)
- বিভিন্ন ধরনের জেল, শ্যাম্পু, তেলকেও দ্বায়ী করা হয় ভেজা মাথায় থাকলেও মাথার উপরের পাতলা টিস্যুর মতো চামড়া নড়ম হয়ে যায় ফলে দ্রুত সেটি আগলা হয়ে থাকে
খুশকি থেকে বেঁচে থাকার ঘরোয়া উপায় কি কি
খুশকি দূর করার জন্য ঘরোয়া বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে, আমরা সেটি তুলে ধরতে পারি। বিশেষ করে এখানে শেয়ার করা প্রতিটি উপায় আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছে থেকে সংগ্রহ করেছি যা তাদের বাস্তব জীবনে কার্যকারী হয়েছিল।
- বিভিন্ন শ্যাম্পু ব্যবহার করা
- লেবুর রস ও নারিকেল তেল
- অ্যাপল সাইডার ভিনেগার
- টক দই (শুষ্কতা ও চুলকানি কমাতে)
- নিম পাতার পেস্ট (অ্যান্টি-ফাঙ্গাল সমাধান)
- অ্যালোভেরা জেল
বিভিন্ন শ্যাম্পুগুলো সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে এর শতভাগ সমাধান মেলে। এবং বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ে বিভিন্ন উপাদান ব্যবাহার করেও এর সঠিক সমাধান পাওয়া যায়। তবে বর্তমান বাজারে অল্প টাকার মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের ক্যামিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু ও তেল পাওয়া যায়, সেজন্য মানুষ এখন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা ছেড়েই দিয়েছে।
কি কি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে খুশকি থেকে বেচে থাকা যায়
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু পাওয়া যায় যা সঠিক ভাবে কাজ করে। তাই আমরা আমাদের এই পর্যায়ে বাংলাদেসের সেরা সকল খুশকি দূর করার শ্যাম্পুকে তালিকা ভূক্ত করেছি। তার মধ্যে রয়েছে যে যে শ্যাম্পু সেগুলো হলোঃ
- কেটোকোনাজল
- সেলেনিয়াম সালফাইড
- জিঙ্ক পাইরিথিওন
- স্যালিসিলিক অ্যাসিড
- সিলেক্ট প্লাস শ্যাম্পু
- ODC শ্যাম্পু
এই শ্যাম্পুগুলো ছোট বড় বিভিন্ন প্যাক পাওয়া যায়। তাই আপনার পছন্দের বা সামার্থের মধ্যে যে কোন প্যাক ই কিনে নিতে পারেন। আমরা আমাদের সিঙ্গেল সিঙ্গেল বিভিন্ন শ্যাম্পু নিয়ে রিভিউ করেছি।
বাজারে ODC শ্যাম্পুর মাত্র ৫ টাকার মধ্যেই ছোট ছোট প্যাক পাওয়া যায়, যেখানে ২ টি প্যাক ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। তাই এর জন্য আহামোরি কিছুই করতে হয় না। তাছাড়াও বিভিন্ন ফারমেসি থেকে আপনি সিলেক্ট প্লাস নিতেও পারেন, ছোট প্যাক এবং বড় প্যাক ও পাবেন।
খুশকি দূর করতে কি কি করনীয় রয়েছে
খুশকি দূর করতে হলে প্রাথমিক ভাবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা অত্যান্ত জরুরি। তার মধ্যে হচ্ছে মাথা পরিষ্কার রাথা, মাথা বা চুল শুকিয়ে নেওয়া, মাথায় তেল ব্যবহার করা, প্রয়োজন হলে খুশকি দূর করার জন্য কোন মেডিকেল সার্টোফাইড শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এক্ষেত্রে খুশকি ভালো হলেও সেখানে আবারে সেটি দেখা যেতে পারে। চিরতরে দূর করতে হলে আপনাকে নিয়ম মেনে জীবন যাপন করতে হবে। অন্তত ২-৩ বছর নাগাদ পরিপাঠি থাকতে হবে। তাছাড়াও আপনি যত দিন ভালোভাবে পরিষ্কার না থাকবেন বা ভেজা চুল নিয়ে থাকবেন ততদিন এটি ভালো করা সম্ভব হবে না আপনি মেডিসিন ব্যবহার করলে সেটি সামান্য সময়ের জন্য ভালো হলেও স্থায়ী হবে না।

