ইসলাম ধর্মের বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কওমি মাদরাসা। কারন এই সময়ে শুধুমাত্র ইসলামের জন্য এই মাদরাসাগুলোই প্রপার ভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে ভালো খারাপ সবাইকেই শিক্ষা গ্রহনের বিশেষ সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। আর সর্বপরি হলো এই কওমি মাদরাসা গুলো ইসলাম শিক্ষার অঙ্গিকারেই প্রতিষ্ঠিত হয়।
কওমি মাদরাসা থেকেই বর্তমান সময়ে ইসলাম শিক্ষার প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পড়াশোনা করা যাচ্ছে। তাই এটিকে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্য়তম একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়।
এই কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অসংখ্য শড়যন্ত্র চালাচ্ছে কিছু অসাধু লোক, এবং কিছু ধর্মের খারাপ চক্র। এগুলো উপেক্ষা করেই সম্মানের সাথে কওমি মাদ্রাসা এখানো শক্তিশালী অবস্থানে টিকে আছে।
কওমি মাদ্রাসার সকল রোডম্যাপ
বিশ্বের সকল দেশে কওমি মাদ্রাসার প্রচলন নেই। অনেক দেশ তাদের ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ধর্মিয় শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তার মধ্যে মিশর, সৌদি সহ অনেক দেশ রয়েছে। কেননা তাদের দেশের শিক্ষাই হচ্ছে আরবি। আর কুরআন হাদিস তো আরবি দ্বারাই লিপিবদ্ধ এজন্য তারা সেই শিক্ষা অর্জন করে সাথে কুরআন ও হাদিসের বিশেষ ক্লাস তাদের নেওয়া হয়।
এছাড়াও সেই সকল দেশে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোও রয়েছে। যদি কেউ ধর্মিয় জ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চায়, তাহলে তার জন্য সেই সিলেবাসে উচ্চ শিক্ষা দেওয়া হয়। আর যখন কেউ ডাক্তার, ইজ্ঞিনিয়ার বা অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চায়, তখন তাকে সেই বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
যেহেতু বিশেষ কিছু দেশে এই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা রয়েছে। তাই এই দেশগুলোতে স্বাধারনত কয়েকটি প্রক্রিয়ায় এটি সম্পুর্ন হয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে ধর্মিয় নিতী অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলেমেয়েদের দেখা সাক্ষাৎ হারাম হওয়ায়, তাদের এক সাথে ক্লাস করার কোন অনুমতি ইসলাম ধর্মে নেই।
সেই পক্ষাপেটে ছেলেদের জন্য পুরুষ কওমি শাখা, আর নারীদের জন্য মহিলা কওমি শাখা করা হয়েছে। যা সাধারন কওমি মাদ্রাসা (ছেলেদের) এবং মহিলা মাদ্রাসা বা কওমি মহিলা মাদ্রাসা নামে পরিচিত।
এক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়েদর ক্লাসের নামেও কিছু পরিবর্তন রয়েছে। সেই সাথে সেখানকার সিলেবাসেও কিছু পরিবর্তন রয়েছে। এটি সম্পুর্ন ইসলাম নির্ধারিত বিষয়। এখানে কারো কোন হাত নেই।
যে সকল বিষয়ে ছেলে এবং মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কম বেশি রয়েছে তার মধ্যে থাকেঃ যা শুধুমাত্র ছেলে অথবা মেয়েদের জন্য নির্ধারিত । আরো কোন কোন ক্ষেত্রে মেয়েদের ১৬ বছর বা তুলনা মূলক ছেলেদের থেকে কম বয়সে বিয়ে হওয়ার জন্য তাদের ক্লাস করার সম কম থাকার জন্য তাদের ক্লাস কমিয়ে রাখা বা সিলেভাস কমিয়ে রাখা। তাছাড়াও যে সকল কাজ মেয়েরা করে না যেমন গরু, ছাগল বা ইত্যাদি জবাহ বা কোরবানি করা, ছেলেদের বিশেষ অঙ্গ বা মেয়েদের নিজস্ব মাসআলার ভিন্নতা ইত্যাদি।
কওমি মাদ্রাসার ক্লাস সমূহের নাম
এটি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য যে কওমি মাদ্রাসা চলমান রয়েছে সেখানকার ক্লাস সমূহের নাম দেওয়া হলো। তবে তার আগে এখানে থাকা একটি বিশেষ প্রক্রিয়া সমন্ধে সমাধান করে নেওয়া উচিৎ।
সাধারনত কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা শেষে কয়েকটি ডিগ্রি বা উপাধি দেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ ক্বারি, হাফেজ, মাওলানা, মুফতি ও মুহাদ্দেস।
এগুলো সব ই কওমি মাদ্রাসার ভিন্ন ভিন্ন শাখায় বা সিলেবাসে পড়াশোনা শেষ করার পরে দেওয়া হয়। তবে কেউ চাইলে সবগুলোই শেষ করতে পারে, তখন সে এই সবগুলো উপাধী পাবে বা সব বিষয়ে শিক্ষিত হবে।
কওমি মাদ্রাসার প্রাথমিক ক্লাস
স্বাধারনত আমরা ব্রাক থেকে শুরু করে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করার পরে আমাদের সাইন্স, কমার্স, আর্স ভাগ করে দেওয়া হয়। ঠিক কওমি মাদ্রাসায় প্রথম ক্লাস হচ্ছে নূরানী
তবে এই ক্লাস টা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় বা সিলেবাসের ভিন্নতায় নামের ও পরিবর্তন হয়ে থাকে। যেমন বাংলা পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রাইভেট স্কুলে প্লে, নার্সারি ইত্যাদি বলা হয়। ঠিক এখানেও এভাবে প্রতিষ্টান, সিলেভাসের ভিত্তিতে নামের কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে এই প্রথম ক্লাস (নূরানী) এর যতগুলো নাম আছে, সবগুলোই নিচে দেওয়া হলো।
- নূরানী (বাংলা, ইংরেজি অন্যান্য পড়াশোনা যুক্ত থাকে)
- কেরাত বিভাগ (শুধু কুরআন শরিফ পড়ানো হয়)
- প্রথম শ্রেনী (বাংলা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত)
- ক্লাস ওয়ান (স্বাধারনত এটি ক্রাডেট মাদ্রাসা বা প্রাইভেট মাদ্রাসায় ব্যবহৃত)
- ক্বারিয়ানা (প্রথম ক্লাস শেষ করলেই ক্বারি পড়াশোনা শেষ তাই এটিও বলা হয়)
নোটঃ এই প্রথম ক্লাসটি শেষ করার সাথে তাকে ক্বারি উপাধি দেওয়া যেতে পারে। তবে স্বাধারনত ক্বারিরা এই ক্লাসের সাথে আরো কিছু বিষয়ে দক্ষ্য থাকে। যেমন বিভিন্ন ছোট খাটো মাসআলা (কুরআন পাঠ সম্পর্কিত)।
কওমি মাদ্রাসার পড়াশোনার স্তরসমূহ এবং ক্লাসের নাম
প্রাথমিক ক্লাস সমন্ধে জেনে গেছেন। প্রাথমিক ক্লাসের মাধ্যমেই সাথে আর কিছু ক্লাস করলে একজন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ক্বারি হতে পারে। ক্বারি হওয়ার পরে তার পরবর্তি ক্লাস শুরু হয়। বাংলা পড়াশোনার মতো চিন্তা করতে গেলে ssc শেষ করার পরে কেউ ডিপ্লমা করে, কেউ ইন্জিনিয়ার, কেউ ডাক্তার হবে। ঠিক সেভাবেই এখানেও কেউ শুধু ক্বারি হয়ে শেষ করতে পারে এবং বিভিন্ন ছোটখাটো চাকুরি নিতে পারে। আর চাইলে সে ভিন্ন দুটো রাস্তায় পড়াশোনা শুরুও করতে পারে, সেগুলো হলোঃ হিফয, জামাত বিভাগ।
ক্বারি কাকে বলে এবং কি ধরনের শিক্ষা যোগ্যতাসম্পূর্ন হতে হবে
ক্বারি হচ্ছে কওমি মাদরাসার সর্বপ্রথম শিক্ষাস্তর। এখান থেকে সে দ্বিত্বিয় দুটো শিক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করতে পারে। স্বাধারনত ক্বারি বলা হয় সেই সকল কওমি ছাত্রদের যারা সবে মাত্র কুরআন দেখে দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে পারে, সাথে কুরআন পড়া সংক্রান্ত সকল মাসআলা এবং তাজবিদ সমন্ধে তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান রয়েছে।
যেহেতু কওমি মাদরাসা ইসামিক শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ। তাই এখানে কুরআম শিক্ষা হচ্ছে বাধ্যতামূলক। তাই সবাইকেই এই ক্লাসটি শেষ করার পরে পরবর্তি ক্লাসে যেতে হবে। কিন্তু সবাই শুধু নূরানী বা কেরাত বিভাগ (এটি পোস্টের প্রথমে আলোচনা করা হয়েছে) শেষ করে পরবর্তি ধাপে পড়াশোনা শুরু করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা ক্বারি উপাধি পায় না কেন, এই কারন হচ্ছে তারা প্রয়োজনীয় সকল মাসআলা সমন্ধে জ্ঞান রাখে না। যা উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে পরবর্তি ক্লাসের সিলেভাসে তাদের ইনক্লুড থাকায় ওখান থেকে কমিয়ে দ্রুত উপরের ক্লাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে তারা পরবর্তি ক্লাসে ঠিক ই যেতে পারে, কিন্তু তারা ক্বারি হতে পারে না।
হিফয বা হাফেজি পড়াশোনা
ক্বারি হোক বা তারাতারি শেষ করে পরবর্তি পড়াশোনা শুরু করুক, তার পরে তার সামনে ২ টি রাস্ত চালু হয়ে যাবে। ১. হিফয ২. মাওলানা বা জামাত বিভাগ। স্বাধারনত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এখান থেকে ডিফাইন্ড করা হয় যে সে কি আসলে হাফেজ হবে নাকি মাওলানা হবে নাকি উভয়টা হবে। এটি স্বাধারনত বয়স, মেধা, পারিবারিক পরিচ্ছিতি সহ অনেক বিষয়ের উপরে নির্ভর করে। তাই শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেই ডিফাইন্ড করা উচিৎ।
স্বাধারন ভাবে যারা হাফেজ হতে আগ্রহী তারা হিফজ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। এটিকে হেফজ নামেও অনেকে ডেকে থাকে। আর য়ারা হাফেজ ও মাওলানা উভয় হতে চায়, তারা হিফজ বা কিতাব যে কোনটায় ভর্তি হতে পারে। তবে যেহেতু হিফজ (হাফেজি) শেষ করতে কিতাব বিভাগের (মাওলানা) চেয়ে কম সময় লাগে তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সবাই আগে হাফেজি পড়া শেষ করে তার পরে কিতাব বিভাগে মাওলানা পড়াশোনা করে।
হাফেজি পড়াশোনার ক্লাস হচ্ছে হিফজ বিভাগ বা হেফজ বিভাগ।
কিতাব বিভাগ বা মাওলানা হওয়ার জন্য ক্লাস সমন্ধে
যদি কেরাত বিভাগ বা প্রথম ধাপের পরে কেউ সরাসরি মাওলানা হতে চায়, সে সরাসরি কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করে। আর হাফেজ মাওলানা হলে তাকে উপরে দেওয়া বিষয়ে জানতে হবে।
মাওলানা হওয়ার ক্ষেত্রে কিতাব বিভাগে ক্লাস শুরু করতে হবে। স্বাধারন ভাবে কিতাব বিভাগে ২ টি সিলেভাসে পড়াশোনা হয়
১. মাদানী নিসাব
২. স্বাধারন কিতাব বিভাগ
নোটঃ মাদানী নিসাবে মাত্র ৬ বছরে মাওলানা হওয়ার পড়াশোনা শেষ করা হয়। এখানে প্রচুর চাপ থাকে, তাই সবাই টিকে থাকতে পারে না। তাছাড়াও দেখা যায় যাদের ব্রেইন ভালো তারাই এটা নিতে সক্ষম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা হাফেজ মাওলানা হয়, তাদের হাফেজি শেষ করার পরে ব্রেইন ক্লিয়ার থাকে মুখস্ত শক্তি বেড়ে যায় সাথে সাথে তারা সময় ও কম করে ফেলে (হাফেজ হতে যে বছরগুলো লেগে যায়) তাই এই মাদানী নিসাবে কষ্ট করে পড়ে।
মাদানী নেসাবের ক্লাস সমূহের নাম গুলো হলো প্রথম বর্ষ, দ্বিতিয় বর্ষ এভাবে বোঝানো হয়ে থাকে।
স্বাধরন যে কিতাব বিভাগের পড়াশোনা হয়, সেখানে মুলত ১০ বছরের মতো সময় লেগে যায় পুরো সিলেভাস শেষ করতে। তবে যখন কেউ হাফেয হয়ে এই স্বাধারন সিলেভাসে পড়াশোনা শুরু করে, তখন তারা প্রথম ক্লাস ২ টি ১ বছরে শেষ করে ফেলে। আর যারা হাফেজ হয়নি, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা ২ ক্লাস ২ বছরেই পড়ে থাকে (চাইলে চাপ নিয়ে ১ বছরে ২ ক্লাস পড়তে পারে)।
স্বাধারন সিলেভাসের কওমি মাদরাসার মাওলানা হওয়ার কিতাব বিভাগের ক্লাস সমূহের নাম হচ্ছেঃ
- তাইসীর জামাত
- মিজান জামাত
- নাহবেমীর জামাত
- হেদায়েতুন নাহু জামাত
- কাফিয়া জামাত
- শরহে জামী জামাত
- জামাতে শরহে বেকায়া
- জালালাইন জামাত
- মেশকাত জামাত
- দারুল হাদিস
তবে যারা ২ ক্লাস একসাথে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে এখানে থাকা প্রথম ক্লাস ২ টো বাদ যাবে, আর তাদের ক্লাসের নাম হবেঃ বিশেষ জামাত
মুফতি বা ফতোয়া বিভাগ
এই বিভাগ কোন হাফেজের বা ক্বারির জন্য কার্যকারী নয়। শুধুমাত্র যারা মাওলানা (স্বাধারন সিলেভাল বা মাদানি নেসাব) হবে। তারাই এটা পড়ার যোগ্য। মাওলানা হলে একজন মানুষ কুরআন হাদিস ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হয়। তার সাথে সেগুলোর অর্থ এবং বিস্লেশন করতেও পারে। তখন তারা মুফতি পড়তে পারে। মুফতি হচ্ছে সেই ক্লাস যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাসআলা এবং বিচার বা অন্যান্য ঝামেলা সংক্রান্ত কুরআন হাদিস থেকে সমাধান খুজে বের করা।
এক্ষেত্রেে অতিতের প্রায় সকল ফলাফল সমন্ধে তাকে শেখানো হয়। সাথে সেই ক্লাসের সবার যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন নতুন তথ্যের সন্ধান করে অন্যান্য মুফতি বা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় যা সবার আলোচনায় একটি বিশেষ সমাধানে পৌছায়।
এই ক্লাস কে কুরআন হাদিসের একটি বিশেষ রিসার্স ক্লাস ও বলা চলে। এই ক্লাসের নাম হচ্ছেঃ ইফতা। এখানে পড়াশোনা শেষ করার পরে একজন মানুষ কুরআন হাদিসের প্রয়োজনীয় বুদ্ধি সম্পুর্ন হতে পারে।
মহিলা মাদরাসার ক্লাস সমূহের নাম
সকল ক্লাস কে প্রায় এক নামেই ডাকা হয়। তবে যেহেতু মহিলারা কুরআন হাদিসের বিষয়ে রিসার্চ করে না। আর শর্ট করে সিলেভাস করা হয় তাদের জন্য। তাই তাদের জামাত বা কিতাব বিভাগের ক্লাসগুলোর নাম ভিন্ন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে এটি নয় যে তাদের মূর্খ রাখা হয়। বরং তাদের বিশেষ ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখা হয়, যেমন আল্লাহ তাদের জানাজা, ঈদের নামাজ বা আরো কিছু ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

