ঢাকা উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজে আজ (২১ জুলাই ২০২৫) দুপুর ১:০৬ মিনিটে বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান F‑7 BGI প্রশিক্ষণকালে ক্রাশ করে মাইলস্টোন কলেজের শিশু বা প্লে শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রণীর ভবনাংশে। সেখানে ঘটে যায় একটি ক্লান্তি ভরা ঝড়। তখন দুপুর, সূর্য ঠিক মাথার উপরে আছে। অশিকাংশ শ্রেণীতেই ছুটির ঘন্টা পড়েছে, তবে কোথাও কোথাও কোচিং চলতেছিল এমন অবস্থায় বিমান বাহিনীর সদ্য ট্রেনিং এর প্রায় শেষ পর্যায়ে আসা সৈনিক লেফটেনেন্ট তৌকির তার শেষ ধাপ শেষ করার জন্যই শেষ উড়াল দিয়েছিলেন।
কিন্তু ধারনা করা হচ্ছে যান্ত্রিক সমস্যার জন্যই পাইলট চেষ্টা করতেছিল শেষ পর্যন্ত কোন ভাবে যেতে, তবে তার এই আশাও যেন হতাশায় পরিণিত করে গিয়ে মাইলস্টোন কলেজ এর মাঠের শেষ দিকে স্কুলের ছোট ছেলেদের অংশে বিমানটি লুটিয়ে পড়ে। বিদ্ধস্ত এই বিমানে তাৎক্ষণিক অগ্নি কান্ডের ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে শুরু করে, আর হতাশায় ঠিক ভাবে বেরিয়ে আসতেও ব্যার্থ হয়েছিল তারা।
এই ধরনের বিমানের বডি তৈরিতে সাধারনত অ্যালুমিনিয়াম বা এই ধরনের কিছু মেটাল ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যা অনেক বেশি পরিমাণে তাপ সৃষ্টি করে আর অনেক দ্রুত আগুন ধরতে সক্ষম। সেজন্যই বিমানের পাশেই থাকা লোকগুলো তাৎক্ষণিক মারা যায় আর পাশের লোকগুলো অনেক বেশি তাপমাত্রায় প্রচু ক্ষতি হয়েছে।
মাইলস্টোন কলেজ নিয়ে গুজব
ঘটনাকে ঘিরে প্রচুর পরিমানে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে বিগত বিভিন্ন দূর্ঘটনার ফটো, ভিডিও এবং AI ব্যাবহার করে তৈরি করা বিভিন্ন ফটো এবং ভিডিও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ভিউ ব্যবসায়ীরা। তাই সেগুলো থেকে বিরত থাকুন, সেগুলো দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
মাইলস্টোন কলেজ এর ঘটনায় সংকোট ও বিরক্তিকর বিষয় কি কি
ঘটনাস্থলের সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল সেখানকার দর্শক, যারা কোন কাজের জন্য নয় বরং শুধু দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছিল। ফলে সেখানকার রোগীদের নিতে, গাড়ি বা অন্যান্য বিষয় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেই সাথে আমরা কিছু নেতাদের ও নিজেদের সম্মান বাড়ানো বা জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সেখানে যেতে দেখেছি। ফলে সেখানে আরো ভীড় যনিত সমস্যা বেড়ে গেছিলো।
সবচেয়ে বেশি সংকট ছিল নেগেটিভ গ্রুপগুলোর রক্তের, তবে সম্ভবত প্রয়োজনীয় রক্ত তাৎক্ষণিক সেখানকার ব্লাড ডোনার এবং সেখানকার সাধারন মানুষের মাধ্যমে সংগ্রহ করা গিয়েছে। হয়তো আগামীতে চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী আরো রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।
শেষ অবস্থা কি ছিল
বিধ্বস্ত অবস্থায় পাইলট Flight Lt Toukir Islam প্রাণ হারান, একই সাথে ভূমিতে ১৯–২০ জন (ছাত্র–ছাত্রী ও শিক্ষক) নিহত হন, আহত হয়েছেন প্রায় ১৬০–১৭১ জন। সোস্যাল মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী সেখানে একাধীক শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছে। যানা গেছে, সেখানে একজন শিক্ষিকা ২০ জনের ও বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে আর বিনিময়ে তার নিজের জীবনটা বিলিন করতে হয়েছিল।
নিহতদের দেহ পুড়ে ভয়াবাহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর আহতরা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব্য অল্প আহতরা চিকিৎসা না নিয়ে অন্যদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আর এই চিকিৎসা বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চলমান রয়েছে, সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজনে আরো বিভিন্ন উন্নত হসপিটালে পাঠানো হতে পারে।
প্রায় পুরো ঘটনায়র সাথেই বিভিন্ন আইন সৃঙ্খলার কর্মীরা কাজ কর গেছে, বিশেষ করে পুলিশ, ফায়ার ফাইটার, বিমান বাহিনী, সেনা সদস্য সহ আরো কয়েক পেশার মানুষ সেখানে এক যোগে কাজ করে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক সদস্যদের ও সেখানে সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাড করতে দেখেছি।
প্রাথমিক অবস্থায় একটি পুড়ে জড়ো হয়ে যাওয়া বডি পাওয়া যায়, তবে অনেকের মতে সেটি সেখানকার একটি হরিণ ছিল। তবে সেটি আসলে দেখে বোঝা সম্ভব ছিল না যে সেটি আসলে কি ছিল। হয়তো পরিক্ষা শেষেই সেটি সমন্ধে জানা সম্ভব হবে।
পরবর্তি পদক্ষেপ কি কি আছে
আগামীকাল সারা দিন রাষ্টিয় ভাবে শোক পালন করা হবে। আর অসুস্থদের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেই সাথে সেখানকার নিখোজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সাথে তাদের মিলিয়ে দেওয়া হবে।

