পৃথক ঘটনায় বাংলাদেশে যতগুলো মানুষকে পিটিয়ে হত্যা হয়েছিল

0
126

বাংলাদেশে পৃথক পৃথক কিছু বেশ পরিচিত ঘটনাকে আমরা এখানে তালিকা করেছি, যেখানে মূলত ভিন্ন ভিন্ন কারণে কাউকে পিটিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

যেহেতু বাংলা ভোর একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করার চেষ্টায় সর্বদা চেষ্টা করি। আশা করি এই প্রতিবেদন এর মাধ্যমে আপনারা সারা দেশের ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সংক্ষেপে তুলনা করে নিতে পারবেন।

ভালুকায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, লাশে আগুন

সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীপুচন্দ্র দাস (৩০) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন দিয়েছে জনতা। যা পরবর্তি সময়ে প্রমাণহীন বলে গন্য হয়েছে। তবে এখানে প্রশ্নবদ্ধ হচ্ছে মুখে গালি দেওয়ার পরে সেটি রেকর্ড না থাকলে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রভাব বলেও অনেকে প্রচারনা করে যাচ্ছে, কেউ কেউ ঘটনা সমন্ধে সব তথ্য না জেনেও পক্ষ বা বিপক্ষে আলোচনায় জড়াচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নয়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসার বিরোধের জেরে স্বপন মোল্লা (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে উত্তর নরসিংপুর এলাকার চিতাখোলা সংলগ্ন স্থানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরীফুল ইসলাম নিহতের স্ত্রীর বরাতে জানান, টিপু নামে এক ব্যক্তি প্রথমে স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করেন। এরপর দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। এসময় বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় স্বপনের ভাইও গুরুতর আহত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে ‘চোর’ সন্দেহে নির্মাণশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় মো. পারভেজ (৩০) নামের এক যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।পরিবারের দাবি, পারভেজকে চোর আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে এক যুবককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (সোমবার, ২০ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম আবু হানিফ (৩০)। তিনি বাগেরহাটের শরণখোলার আবুল কালামের ছেলে এবং পেশায় নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিকেল তিনটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা হাসপাতালে রেখে চলে যান। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

(ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ‘দুপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এলাকার কয়েকজন যুবক হানিফকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে খানপুর জোড়া ট্যাংকি এলাকায় মারধর করে।

নিহতের বড় বোন রাবেয়া বেগম বলেন, ‘দুপুরে ভাই বাসায় বিছানায় শুয়ে ছিল। হঠাৎ কয়েকজন ছেলে বাসায় ঢুকে ভাইরে মারতে শুরু করে। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনেনি। পরে শুনলাম, ভাই নাকি কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু কে সেই মেয়ে, কখন ঘটনা ঘটেছে—কিছুই জানি না।

মোবাইল চোর সন্দেহে যুবককে ‘পিটিয়ে হত্যা’

ডেমরায় মোবাইল চোর সন্দেহে মো. রাকিব মিয়া নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক দুপুর ১২টার দিকে তাকে মৃত বলে জানান।

নিহতের আত্মীয় জুবায়ের বলেন, ‘মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভবনটির শ্রমিক এবং স্থানীয় লোকজন রাকিবকে মারধর করে। ইট দিয়ে আঘাত করলে ৩৫ বছর বয়সী রাকিব আহত হন।

২. মোবাইল চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

জামালপুর সদর উপজেলায় মোবাইল চোর সন্দেহে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই যুবকসহ তিনজন সদর উপজেলার চর যথার্থপুরের উজানপাড়া এলাকার কয়েকটি বাড়িতে মোবাইল চুরি করতে ঢোকেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পান। দুজন পালিয়ে গেলেও ওই যুবক স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়েন। পরে তাকে একটি বাড়িতে কামরাঙ্গা গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

চোর সন্দেহে যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

মঙ্গলবার ভোরে জাঙ্গালিয়া গ্রামে তিনটি মুঠোফোন ও নগদ ১ হাজার ৬০০ টাকা চুরি হয়। হম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে, মো. ইসরাফিল (৪০) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, কয়েক দিন আগে আগে নারায়ণপুর গ্রামের এক যুবকের মোবাইল চুরি হওয়ার পর থেকেই ইসরাফিলকে সন্দেহ করে আসছিল স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নবীনগরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত বৃদ্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের কোনাউর গ্রামে জনৈক মোহাম্মদ আলী নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে ৬০ ঊর্ধ্ব বয়োজ্যেষ্ঠ একজনকে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলীসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ৩

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহীন শিকদার (২৮)। তিনি ওই ইউনিয়নের গজগাঁ গ্রামের মোস্তফা শিকদারের ছেলে। আহতরা হলেন—গজগাঁ গ্রামের সুমন, পারভেজ এবং ইনামুল।

মোবাইল চোর সন্দেহ ফল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুরে মোবাইল ফোন চোর সন্দেহ এক মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আরেকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহানগরীর কোনাবাড়ীর আমতলা (পারিজাত) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল তালুকদার (৪৩) নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কেন্দুয়া বাজার এলাকার কছিমুদ্দিন তালুকদারের ছেলে। তিনি ছয় বছর ধরে আমতলা এলাকায় হোসেন আলীর বাসায় ভাড়া থাকেন। আগে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরে কিছুদিন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে মৌসুমি ফলের ব্যবসা শুরু করেন।

শুক্রবার স্থানীয় একটি বাসা থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই বাসার লোকজন সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও দেখে আব্দুল হকের মেয়েকে শনাক্ত করেন। রবিবার দুপুরে সেই মেয়ে আবার ওই বাসায় যায়। তখন লোকজন তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর সূত্র ধরে লোকজন জুয়েল তালুকদার ও আব্দুল হককে ধরে গণপিটুনি দেন। এতে জুয়েল ঘটনাস্থলেই মারা যান।

যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ঢাবির ৪ শিক্ষার্থী আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

হলের শিক্ষার্থীরা তোফাজ্জলকে ছাত্রাবাস থেকে মোবাইল ফোন চুরি করেছে বলে সন্দেহ করার পর এই ঘটনা ঘটে।

আরো শুনতে চান?

আরো কয়েক লক্ষ্য হত্যার কথা বলতে পারি, গতকালের একটি ঘটনায় ভারতের কোন এক স্থানে একজনকে বাংলাদেশি সন্দেহে এভাবে নির্মম ভাবে হত্যা হয়েছিল।

তবে ধর্মের ব্যাপারে পরে আসি, যদি বিচার হয়, তাহলে সবার ক্ষেত্রেই হতে হবে। আর না হলে কারোই নয়। তাছাড়াও কিছু কিছু জিনিসের কোন প্রমাণ হয় না, যা বাতাসে মিলিয়ে যায়, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। এমন তো নয় যে আগে কখনোই কেউ ইসলামকে অবমাননা করেনি, তার সাথে আগে যারা করেছে, তাদের ও বিচার হয়নি, এখন যে বিচার হবে বা ঘটনাকে লুকানো হচ্ছে না, তা কিভাবে দেখবো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here