ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া বৈশ্বিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪০টির মধ্যে অন্তত ২৪টি জাহাজ এখনো যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার এই তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, চলমান নৌযানগুলোর মধ্যে মিকেনো নামের একটি জাহাজ ইতোমধ্যেই গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে সেটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আর বাকি ২৩টি জাহাজ গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
এর আগে বুধবার রাতে ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৩টি জাহাজ আটকে দেয়। সেগুলোতে থাকা ৩৭ দেশের ২০০-এর বেশি মানবাধিকার কর্মীকে আটক করা হয়। আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। এদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, “হামাস–সুমুদ ফ্লোটিলা”র কিছু নৌযান থামানো হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ এটাকে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ ও মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
এই বৈশ্বিক নৌবহরে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। প্রায় ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে ফ্লোটিলার প্রথম বহর যাত্রা শুরু করে। পরে সেপ্টেম্বরে তিউনিসিয়া, ইতালির সিসিলি ও গ্রিস থেকেও একে একে নৌযানগুলো এই মানবিক মিশনে যুক্ত হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

