বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের পাশে ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে বৃত্তির সুযোগ?
বাংলাদেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে না। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী প্রার্থীদের দেবে এ বৃত্তি। দেশের বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন ট্রাস্ট ও প্রতিষ্ঠান এসব শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিতভাবে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছে।
সরকারি ব্যাংকগুলোর শিক্ষাবৃত্তি
সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক প্রতিবছর দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির আয়োজন করে থাকে। সাধারণত HSC বা SSC পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আবেদন নেওয়া হয়। এসব বৃত্তির জন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয় এবং প্রয়োজন হয় জন্মনিবন্ধন, ফলাফলের কপি অভিভাবকের আয় সনদসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শিক্ষাবৃত্তি
ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) শিক্ষাবৃত্তি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় বেসরকারি ব্যাংক বৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বৃত্তির জন্য আবেদন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সহায়তা পায়। এছাড়াও এনসিসি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু বেসরকারি ব্যাংক CSR কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও’র শিক্ষাবৃত্তি
ব্যাংকের বাইরেও বাংলাদেশে কিছু ট্রাস্ট, এনজিও ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। ব্র্যাক, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ট্রাস্ট, সিটি গ্রুপ, আল আরাফাহ ফাউন্ডেশন এবং মাতৃছায়া ফাউন্ডেশন প্রভৃতি সংস্থা দরিদ্র মেধাবীদের নিয়মিত বৃত্তি দিয়ে আসছে।
এছাড়া কিছু স্থানীয় ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশন যেমন আনোয়ারা ট্রাস্ট (চট্টগ্রাম), বাচ্চু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট (স্থানীয়ভাবে) নিজেদের এলাকাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে থাকে।
সচেতনতা ও আগ্রহের অভাব
অনেক সময় দেখা যায়, এসব বৃত্তির কথা অনেক শিক্ষার্থী জানেই না। ফলে যোগ্য হয়েও তারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিয়মিত এসব স্কলারশিপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানায়, তবে অনেকেই উপকৃত হতে পারে।

