কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা মেসি ও তার অসংখ্য ভক্ত-সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, তা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও বিস্মিত করেছে।
তিনি আরও লেখেন, হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী সমর্থকের মতো তিনিও মেসির এক ঝলক দেখার আশায় স্টেডিয়ামের পথে রওনা হয়েছিলেন। তবে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনার জন্য তিনি লিওনেল মেসি এবং সকল ক্রীড়াপ্রেমীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আশিম কুমার রায়-এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেন।
উল্লেখ্য, ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন লিওনেল মেসি। সফরের প্রথম দিনেই তিনি কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে অনুষ্ঠানটি দ্রুতই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে গ্যালারি থেকে বোতল ও চেয়ার ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মেসির নির্ধারিত ল্যাপ অব অনার সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং দ্রুত তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
এ সময় কিছু দর্শক ব্যানার ও আসন ভাঙচুর করেন, আবার অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো ঘটনাজুড়ে আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অনেক সমর্থক। এক মেসি-ভক্ত বলেন, ‘মেসির চারপাশে শুধু নেতা আর তারকারাই ছিলেন। তাহলে সাধারণ দর্শকদের কেন ডাকা হয়েছিল? আমরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও তাকে ঠিকভাবে দেখতে পাইনি।’
কলকাতার পর মেসির হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লি সফরেরও সূচি রয়েছে বলে জানা গেছে।

