রাম মন্দির সম্পূর্ণ, কিন্তু কেন শুরু হয়নি অযোধ্যার মসজিদ নির্মাণ? কারণ জানুন

0
113
অযোধ্যা মসজিদ নির্মাণ বিলম্ব
অযোধ্যা মসজিদ নির্মাণ বিলম্ব

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত রাম মন্দিরের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং ২৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে একই রায়ের ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়া নতুন মসজিদের নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি।

২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাবরি মসজিদ–রাম জন্মভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। রায়ে বলা হয়, রামলালার জন্য বিতর্কিত জমি হস্তান্তর করা হবে এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যাতেই সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প জমি দিতে হবে।

ধন্নীপুরে বরাদ্দ জমি

সরকার ২০২০ সালে অযোধ্যা শহর থেকে প্রায় ২০–২৫ কিলোমিটার দূরে সোহাওয়াল তহসিলের ধন্নীপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করে। পরে ‘ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়।

কিন্তু তিন বছর পার হলেও প্রকৃত অর্থে নির্মাণকার্য শুরু হয়নি।

বিলম্বের পেছনে যে কারণগুলো উঠে এসেছে

নানা মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সামনে এসেছে—

  • অতিরিক্ত দূরত্ব: অযোধ্যা থেকে অনেক দূরে জমি দেওয়ায় সাধারণ মুসল্লিদের সেখানে যাওয়া কঠিন হবে বলে অনেকেই মনে করেন।
  • ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য: নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবকিছুতেই মতবিরোধ দেখা গেছে।
  • অর্থ সংকট: ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জুফর আহমেদ ফারুকির দাবি, অর্থের অভাবই কাজ দেরির বড় কারণ।
  • কোভিড পরিস্থিতি: জমি বরাদ্দের পরই মহামারি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সব কার্যক্রম পিছিয়ে যায়।
  • নকশা বাতিল: দমকল বিভাগসহ ১৪–১৫টি সরকারি সংস্থার NOC জমা না দেওয়ায় পূর্বের নকশা বাতিল করে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

ফারুকির ভাষায়, “আমরা নতুন নকশা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তাই আগের নকশার জন্য এনওসি জমা দেওয়া হয়নি।”

জমি নিয়ে প্রশ্ন ও অসন্তোষ

আরটিআই কর্মী ওম প্রকাশ সিং জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল—মসজিদের জন্য জমি অযোধ্যা নগরীর ভেতরে বা খুব কাছাকাছি এলাকায় দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে জমি দেওয়া হয়েছে ২৫ কিলোমিটার দূরে। এ নিয়ে তিনি আরটিআইও করেছেন।

স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, এত দূরে মসজিদ হলে তা জনসাধারণের জন্য কার্যকর হবে না।
অঞ্জুমান মুহাফিজ মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজম কাদরি বলেন, “সরকার চাইলে উন্নয়ন কাজ দ্রুত হয়। রাম মন্দির তার প্রমাণ।”

ট্রাস্টের পাল্টা ব্যাখ্যা

ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ফারুকি অবশ্য বলেন, এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা আছে, তাই ধন্নীপুরের স্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তার দাবি, “মানুষ মসজিদে যাবেন। সিদ্ধান্ত আমরা আগেই মেনে নিয়েছি।”

স্থানীয়দের হতাশা

ধন্নীপুরের অনেক মানুষই এখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনাগ্রহী।
এক দোকানি বলেন, “শুরুর দিকে অনেক আলোচনা ছিল, এখন সব শান্ত। বোর্ডের লোকেরাও আর আসেন না।”

গ্রামের বাসিন্দা নেহাল আহমেদ বলেন, “সংবাদমাধ্যম ছাড়া কেউ আসে না। গ্রামের দু’টি মসজিদেই মানুষ নামাজ পড়ে।”

নতুন নকশার প্রস্তুতি

ট্রাস্ট জানিয়েছে, নতুন নকশা প্রায় তৈরি এবং তা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
নতুন মসজিদ ১৪০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিত হবে। এর সঙ্গে হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেনসহ আরো কয়েকটি প্রজেক্টের পরিকল্পনা রয়েছে—যদিও এগুলো এখনো কাগজে-কলমে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন

মসজিদ নির্মাণে ধীরগতির জন্য বিরোধী দলগুলো সরকারকে দায়ী করছে।
সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ—সরকার শুরু থেকেই ভিন্ন মনোভাব দেখিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি বলছে, মসজিদ নির্মাণে উৎসাহ নেই বলেই কাজ দ্রুত এগোচ্ছে না।
বিজেপি নেতাদের মতে, “যেখানে মন্দির নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল, মসজিদ নিয়ে সেই উদ্দীপনা দেখা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here