১৬ মিনিটের ভাষণে নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দিলেন তারেক রহমান
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও দেশ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তৃতায় তিনি জানান—স্বাধীনতার চেতনাকে ভিত্তি করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতভেদ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে।
তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল—
- জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা
- বৈষম্যহীন, নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
- তরুণ, নারী, শিশু, শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্নের দেশ গড়ে তোলা
- শহীদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা
- ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান
দেশের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ৭ নভেম্বর, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান—সব আন্দোলনই এসেছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে। তারেক রহমানের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেও জনগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি উল্লেখ করেন—নারী, শিশু, যুব সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, কৃষক-শ্রমিকসহ দেশের কোটি কোটি মানুষের একটাই প্রত্যাশা—নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক, সুযোগসুবিধাসম্পন্ন একটি রাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তৃতার একাংশে শহীদ ওসমান হাদির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেওয়া এসব তরুণদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
এ সময় তিনি বারবার ধৈর্য, সংযম ও শান্তিপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তার ভাষায়—
“যেকোনো উসকানির পরিস্থিতিতে আমাদের শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।”
মার্টিন লুথার কিং-এর ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উল্লেখ করে তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা বলেন:
“আমি আমার দেশের মানুষের জন্য একটি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি—উন্নয়ন, পরিবর্তন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের পরিকল্পনা।”
বক্তৃতার শেষে তিনি মা খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে সবার দোয়া চান। একই সঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

