রাজশাহীর তানোরে গভীর গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশু সাজিদ: মেলেনি খোঁজ

0
120
রাজশাহী তানোর নিখোঁজ শিশু উদ্ধার
রাজশাহী তানোর নিখোঁজ শিশু উদ্ধার

রাজশাহীর তানোরে নলকূপ স্থাপনের জন্য খনন করা একটি সরু ও গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দিন-রাত এক করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে তানোর উপজেলার কৈয়েল হাট পূর্বপাড়ায় আগে খনন করা একটি গর্তে পড়ে যায় সাজিদ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে চেষ্টা চালায়, তবে এতে গর্তের ভেতর আরও মাটি পড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওসি বলেন, “গর্তটি অত্যন্ত সরু—মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি ব্যাস। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ক্যামেরা ওই গভীরতা পর্যন্ত নামানো হলেও তাকে দেখা যায়নি।”

ফায়ার সার্ভিস মূল গর্তের চারপাশে মাটি কেটে শিশুর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। প্রথমে ছোট এক্সকাভেটর দিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে বড় এক্সকাভেটর এনে রাতভর খনন কাজ চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি খোঁড়া হলেও শিশুকে পাওয়া যায়নি। তাই আরও পাঁচ ফুট গভীর পর্যন্ত খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস কর্মী বেলাল হোসেন জানান, “৩৫ ফুট পর্যন্ত সার্ভেইলেন্স ক্যামেরা নামানো হয়েছিল, পরে আরও গভীরে খুঁড়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।”
তবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় গর্তে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্স থেকে পাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার সময় শিশুটি তার মা রুনা খাতুনের সঙ্গে হাঁটছিল। রুনা খাতুন আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,
“আমি দুই ছেলেকে কোলে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এক ছেলেকে নিচে নামাতেই সে পিছলে গর্তে পড়ে যায়। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি ছেলেটা আর নেই—গর্তের ভেতর থেকে ‘মা মা’ বলে ডাক দিচ্ছিল।”

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়ন ভূগর্ভস্থ পানিশূন্য এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই গভীর নলকূপ খনন করে। যেখানে শিশুটি পড়ে গেছে, সেই কূপটি প্রায় এক বছর আগে খনন করা হলেও পানি না মেলায় কাজটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে ছিল। বর্ষায় মাটি দেবে গিয়ে সেখানে নতুন করে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং অসাবধানতাবশত সেই গর্তেই পড়ে যায় সাজিদ।

শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের আশায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here