রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনার ৬৮ দিন পর অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নুরাল পাগলের শ্যালিকা শিরিন বেগম রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আমলী আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় মোট ৯৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম।
প্রধান আসামি ও রাজনৈতিক পরিচয়
এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মুহিত হীরাকে।
এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
- উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা জালাল উদ্দিন প্রামাণিক,
- উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইয়ুব আলী খান,
- পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মাহাবুব রাব্বানী,
- আলজামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কওমি মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী,
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম,
- উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি আজম,
- বাজার বড় মসজিদের ইমাম হাফেজ আবু সাঈদ (বর্তমানে কারাগারে),
- এনসিপির স্থানীয় নেতা রাকিব হাসান ও নাজমুল ইসলাম,
- এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সাংবাদিক মেহেদুল হাসান আক্কাছসহ আরও অনেকে।
পূর্বের মামলার প্রেক্ষাপট
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাসেল মোল্লা হত্যা ও দরবারে হামলার ঘটনায় রাসেলের বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেখানে প্রায় চার হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সেই মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৩৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ ওই মামলায়ও ১৬ জনকে আটক করে।
হামলার বিবরণ
গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে তৌহিদী জনতা ও ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সমাবেশ শেষে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালায়। তারা দরবারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, পরে শরিয়তবিরোধীভাবে দাফনের অভিযোগে কবর থেকে নুরাল পাগলের লাশ উত্তোলন করে মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এই ভয়াবহ ঘটনায় ১০–১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পুলিশের দুটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহত হয়ে মারা যান রাসেল মোল্লা, যিনি গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের আজাদ মোল্লার ছেলে।
