গাজা ফ্লোটিলার বর্তমান অবস্থা ও বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া

0
219
গাজা ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
গাজা ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

ফিলিস্তিনের গাজার জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া বৈশ্বিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এখনো দারুণ আলোচনার কেন্দ্রে। ৪০টিরও বেশি নৌযান নিয়ে গঠিত এই বহরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনজীবী, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৩টি জাহাজ আটক করে ৩৭ দেশের ২০০-র বেশি কর্মীকে বন্দরে নিয়ে যায়। আটককৃতদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। তবে ফ্লোটিলা জানাচ্ছে, এসব কর্মী সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন।
ফ্লোটিলা এখনও ২৪টি জাহাজ নিয়ে গাজার পথে এগোচ্ছে। এর মধ্যে মিকেনো নামের একটি জাহাজ ইতোমধ্যেই গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় পৌঁছেছে। বাকি ২৩টি জাহাজ উপকূল থেকে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই বহরের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে, খাবার, পানি ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।

ফ্লোটিলার অভিযানকে ইসরায়েল হামাস-সম্পর্কিত বলে দাবি করলেও, আয়োজকরা বলছেন—“আমরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইন মেনে চলছি। বরং অবৈধ হলো ইসরায়েলের গাজা অবরোধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। মালয়েশিয়া, তুরস্ক, আয়ারল্যান্ডসহ বহু দেশ এই হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও তুরস্কের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। তারা আটকে রাখা কর্মীদের মুক্তি এবং গাজার অবরোধ ভাঙার দাবি জানাচ্ছে।
ফ্লোটিলার প্রথম বহর ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ইতালি, তিউনিসিয়া এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপ থেকেও নৌযান যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এই বৈশ্বিক মিশনে প্রায় ৫০০ জন অংশ নিয়েছেন।

সংক্ষেপে: গাজার মানুষদের ত্রাণ পৌঁছানোর এই উদ্যোগকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর দিয়েছে। যদিও ইসরায়েলের বাধার মুখে পড়ছে বহর, তবুও ফ্লোটিলা জানিয়েছে, তাদের মানবিক মিশন থেমে থাকবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স