নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা পরিণত হয়েছে রণক্ষেত্রে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোরে খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণ, ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার, বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষটি শুরু হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে কাকাইলমোড়া এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে পরদিন ভোরে উভয়পক্ষের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে তিনটি বিস্ফোরিত হয় এবং দুটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
আহতদের মধ্যে আছমা আক্তার (৪৭), গিয়াসউদ্দিন মিয়া (৪২), হাবিবুল্লাহ মিয়া (৫৫), পিয়ারিম (৪০) ও কামাল হোসেন (৩৪) সহ অন্তত ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “প্রায় দেড় মাস আগে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর কয়েক দফা সংঘর্ষের পর আজকের ঘটনাও সেই পুরনো দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় বিরোধ থেকেই সংঘর্ষ হয়েছে।”
