জামায়াতে ইসলামী হিন্দু প্রার্থী
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অভাবনীয় এক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার প্রথমবারের মতো খুলনা-১ (দাকোপ–বটিয়াঘাটা) আসনে একজন হিন্দু প্রার্থী—কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী বিবিসিকে জানান, তিনি প্রায় দুই দশক ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৩ সালে মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে জামায়াতের সদস্যপদ নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের উপর চাপ থাকার কারণে হিন্দু সদস্যদের তেমনভাবে সামনে আসার সুযোগ হয়নি বলে তার দাবি।
জামায়াত গত ৯ ফেব্রুয়ারি খুলনার ছয়টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। তবে ১ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই দলটি পূর্বঘোষিত প্রার্থী আবু ইউসুফকে বাদ দিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা, জয়ের সম্ভাবনা এবং তৃণমূলের মতামত বিবেচনায় নন্দীর নাম অনুমোদন করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, আরও কয়েকটি আসনে ভিন্নধর্মাবলম্বী প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা চলছে। কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি আসনে এমন প্রার্থীর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি জামায়াতের রাজনীতিতে এক ধরনের উদারনীতি ব্যবস্থার ইঙ্গিত। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে ব্যবহার করার প্রবণতা আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
খুলনা-১ আসনটি মূলত হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা। এখানে স্বাধীনতার পর থেকে বেশিরভাগ সময় হিন্দু প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে রাজনৈতিকভাবে এই আসনে একজন হিন্দু প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপিও একই আসনে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে আমির এজাজ খানকে।
কৃষ্ণ নন্দী জানান, আগের প্রার্থী ইতোমধ্যেই তার হয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। “এলাকাটি হিন্দু-অধ্যুষিত। আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী। দলীয় সিদ্ধান্তের পর সবাই আমার হয়ে কাজ করছেন,”—বলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে—সেটি বড় প্রশ্ন। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির-ঘনিষ্ঠ প্রার্থীর জয়ও আলোচনায় এসেছিল।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দলটি নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে। বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, এটি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে ‘উদারনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

