রেলওয়ের তীব্র ইঞ্জিন সংকটে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের কনটেইনার পরিবহন ব্যবস্থা। দৈনিক যেখানে অন্তত চারটি ইঞ্জিন ব্যবহার করে প্রায় ২০০ কনটেইনার পরিবহনের কথা, সেখানে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে মাত্র একটি ইঞ্জিন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানি–রফতানি বাণিজ্যে।
চট্টগ্রাম বন্দরের আইসিডি ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতা ৮৭৫ টিইইউএস হলেও বর্তমানে ঢাকাগামী এক হাজারের বেশি কনটেইনার জমে রয়েছে। জায়গার অভাবে আরও অন্তত ২০০ কনটেইনার বন্দরের সিজিপিওয়াই ও আশপাশের উন্মুক্ত স্থানে রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত সময়মতো ইঞ্জিন না পাওয়ায় ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে না এসব কনটেইনার।
কনটেইনার জট কমাতে বারবার চিঠি
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫টি ইঞ্জিন ও পর্যাপ্ত র্যাক, কিন্তু বাস্তবে মিলছে তার সামান্য অংশ। ফলে ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, পরিবহন সংকটের কারণে অনেক আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে পারছেন না। এ কারণে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে পরিবহন
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন ২০০ কনটেইনার পরিবহনের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে ৫০টিরও নিচে। এতে বন্দরের ইয়ার্ডে চাপ বাড়ছে এবং পণ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমদানিকারকরা সময়মতো পণ্য বুঝে পাচ্ছেন না।
রেলপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হলেও বর্তমানে একটি কনটেইনার ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগছে ৬ থেকে ৭ দিন। এর বিকল্প হিসেবে সড়কপথে পরিবহন বাড়ায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।
শিল্প ও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব
সময়মতো কাঁচামাল না পৌঁছানোয় ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে রফতানিতে জটিলতা বাড়ছে। বিজিএমইএ–এর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, এভাবে পরিবহন সক্ষমতা কমতে থাকলে আমদানি–রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহন—দুটোতেই চাপ
ইঞ্জিন সংকটের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনাতেও হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন পরিচালনার অতিরিক্ত চাপ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, কনটেইনারের চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হলেও সেই অনুপাতে ইঞ্জিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে আইসিডিগামী ৫০০ থেকে ৭০০ কনটেইনার বহনকারী আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

