উন্নয়ন ব্যয় কমায় কমছে বিনিয়োগ, অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে স্থবিরতার আশঙ্কা

0
59
উন্নয়ন ব্যয় কমায় বিনিয়োগ কমছে
উন্নয়ন ব্যয় কমায় বিনিয়োগ কমছে

সরকার চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত থেকেও আগের তুলনায় অনেক কম ঋণ নিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ—দুই দিকেই এই সংকোচন ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা অর্থনীতিকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

জুলাইয়ের পরিবর্তনের পর একনেক ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু বড় প্রকল্প বন্ধ বা বাতিল করেছে, যেগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বা ‘অতিরিক্ত ব্যয়বহুল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। সর্বশেষ, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৪ হাজার কোটি টাকার বিআরটি প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তও রেখে দেওয়া হয়েছে পরবর্তী সরকারের ওপর।

বরাদ্দ কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বাজেটে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ কমে গেছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বক্তব্য—চলমান প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন কোনো বড় বা ব্যয়বহুল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি।
তবে বাজেটের বছরের শেষ দিকে দেখা যায়, উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহেও প্রত্যাশিত হারে কর রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ব্যাংক ঋণ নেওয়া কমেছে ৬৪%

সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এখন ব্যাংকের পরিবর্তে নন-ব্যাংকিং উৎস থেকে ঋণ নিতেই বেশি ঝুঁকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে—

  • জানুয়ারি থেকে জুন: সরকারি ঋণ—৮৬,৩৪৮ কোটি টাকা
  • জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর: সরকারি ঋণ—৩০,৯৩৩ কোটি টাকা

অর্থাৎ আগের সময়ের তুলনায় ঋণ নেওয়ার হার কমেছে প্রায় ৬৪%, যা নেমে এসেছে মাত্র ৩৬%–এ।

বেসরকারি বিনিয়োগেও বড় ধস

সরকারি উন্নয়ন ব্যয় কমে গেলে বেসরকারি খাতের আস্থা ও বিনিয়োগ—দুটোই কমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান,

সরকার যখন অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ায়, বেসরকারি খাতও তাতে যুক্ত হয়। কিন্তু গত ছয় মাসে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার স্পষ্টভাবে কমেছে।

বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন—বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সংকট প্রকট হতে পারে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন,

নতুন প্রকল্প বন্ধ, পুরনো প্রকল্প স্থবির—এসবের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, কর্মী ছাঁটাই, বেতন কমানো কিংবা বেতন বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের আয় কমছে, বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমছে—যা পুরো অর্থনীতিকেই চাপের মুখে ফেলছে।

তহবিল ঘাটতি বাড়ছে

কর সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় সরকারের অর্থসংস্থানে চাপ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সব খাত মিলিয়ে সরকার ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার অর্থসংস্থান করেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা।

ফলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতেই হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here