২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা হয়েছে ২ জুন, সোমবার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপস্থাপিত এই বাজেটে অনেক পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। জুন মাসেই সাধারণত বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণা হয়, যা কার্যকর হয় ১ জুলাই থেকে।চলতি বছর ঈদুল আজহার ছুটির আগে বাজেট ঘোষণায় নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে বাজারে। বাংলা ভোরে আজ জেনে নিন, কোন কোন পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবারের বাজেটের প্রভাবেই।
বাজেটের পর দাম বাড়তে পারে এমন পণ্যের তালিকা
বাজেটে যে সকল প্রকারের পন্যের দাম বাড়বে, এমন কোন কথা নেই। আবার যে গুলো এখানে তালিকা করা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যেও যে সবগুলো দাম বাড়বে তেমন ও কোন কথা নেই। তবে এখানে আমরা শুধু সম্ভব্য পন্যের তালিকাগুলো করেছি। যা প্রতিবছরের বাংলাদেশের অবস্থা এবং এবছরের বিভিন্ন নির্দশন এর মাধ্যমে আমাদের দক্ষ্য রিসার্চের টিমের দ্বারা এই তালিকা করা হয়েছে।
- সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য
- চিনি
- জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল)
- বিদ্যুৎ ও গ্যাস
- বিদেশি মোবাইল ফোন
- এসি ও ফ্রিজ
- ব্যক্তিগত গাড়ি
- প্রসাধনী সামগ্রী
- আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য
- প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়
বাজেটের পরে পন্যের দাম বাড়ার সম্ভব্য কারণ
প্রতি বছরের বাজেটে সরকার রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য কিছু পণ্যের উপর শুল্ক ও সম্পূরক কর বাড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে বিলাসবহুল ও স্বাস্থ্য ক্ষতিকর পণ্যে কর বাড়ানো হয় জনস্বার্থে। স্থানীয় শিল্প রক্ষায় অনেক আমদানি নির্ভর পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়। জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাতে ভর্তুকি কমানোর কারণে দাম বেড়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক চাপ ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও পণ্যের দাম বাড়ায়।
সব মিলিয়ে বাজেটের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাজারে প্রভাব ফেলে।
বাজেটের পরে সম্ভব্য যে সকল পন্যের দাম বাড়তে পারে
বিশেষ করে বিশেষ কিছু পন্যের দাম কমতেও পারে। এগুলো সাধারনত বিশেষ ভাবে দেশের জনগন কে সন্তুষ্ট করার জন্যই করা হয়ে থাকে। আর যে পন্যগুলো দাম কমতে পারে, তার মধ্যে রয়েছেঃ
- কৃষিযন্ত্রপাতি ও সার
- শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণ (যেমন: বই, খাতা, মেডিকেল যন্ত্রপাতি)
- কিছু ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী
- এলইডি লাইট ও সোলার পণ্য
- স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্য (যেমন: টিভি, রাইস কুকার)
- কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও কিছু প্রযুক্তিপণ্য
- নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপকরণ
- পরিবেশবান্ধব যানবাহন (যেমন: ই-স্কুটার, ই-বাইক)
- শিশু খাদ্য ও পুষ্টিকর পণ্য
- কৃষি ও শিল্প কাঁচামাল
সরকার বাজেটে জনকল্যাণমূলক ও উৎপাদনবান্ধব খাতে শুল্ক ও কর ছাড় দিয়ে থাকে। স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহায়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর ভর্তুকিও বাড়ানো হয়।

