বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে শক্তির জানান দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টিং ক্লাব। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখল সেনাবাহিনীর মেয়েরা। কমলাপুরে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-কে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে দলটি।
শনিবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দিনের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্মি। ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ও গতির দিক থেকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল তারা।

প্রথমার্ধেই নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্মি
২৬ মিনিটে সেনাবাহিনীর হয়ে প্রথমে জাল কাঁপালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। রত্নার আক্রমণ থেকে শিখা আক্তারের পাসে সুলতানা বল জালে পাঠালেও রেফারির সিদ্ধান্তে হতাশ হতে হয় আর্মিকে।
তবে এতে দমে যায়নি তারা। ৩৫ মিনিটে শান্তি মার্ডির নিখুঁত ক্রসে হালিমা আক্তার হেড করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর শান্তির একটি শক্তিশালী শট গোলকিপার ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান মোসাম্মৎ সুলতানা।
এরপর আবার শান্তি মার্ডির আক্রমণ। গোলরক্ষক প্রথমে বল ঠেকালেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সুলতানা নিশ্চিত করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। প্রথমার্ধ শেষ হয় আর্মির স্পষ্ট আধিপত্যে।
দ্বিতীয়ার্ধে তনিমার ঝলক
বিরতির পরেও আক্রমণের ধার কমায়নি বাংলাদেশ আর্মি। ৫৬ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে বল হারালেও বক্সের সামনে সুযোগ পান তনিমা বিশ্বাস। দূরপাল্লার দারুণ শটে বিকেএসপির গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
ম্যাচের শেষদিকে আবার আলো ছড়ান তনিমা। ৮৪ মিনিটে একক নৈপুণ্যে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এরপর শেষ দিকে শান্তি মার্ডির জোরালো শটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-০।
আত্মবিশ্বাসী শুরু সেনাবাহিনীর
এই জয়ে নারী ফুটবল লিগে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টিং ক্লাব যে শিরোপার দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চায়, তার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। দুই ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

