দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। এবার লক্ষ্য ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাই।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২.২ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৪.৫ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট ৫.৫ শতাংশ।
তৃতীয় গণভোট: ১৯৯১
গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করার পর দেশের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফেরার উদ্যোগ নেয়।
এর অংশ হিসেবে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাস হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩৫.২ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৪.৩৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়ে সংসদীয় পদ্ধতি পুনর্বহাল হয়। ‘না’ ভোট পড়ে ১৫.৬২ শতাংশ।
আবারও গণভোটের প্রস্তাব: ২০২৫
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংস্কারের অংশ হিসেবে আবারও গণভোটের বিষয়টি সামনে আসে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার নিশ্চিত করতে নতুন গণভোটের প্রস্তাব দেয়। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এ সংক্রান্ত সুপারিশমালা তুলে দেয় কমিশন।
প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫–এ বলা হয়েছে:
- সংবিধানের ৪৮টি সংশোধনী প্রস্তাবে গণভোট হবে
- ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে:
আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এর তফসিলে উল্লিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি প্রদান করছেন? - ভোটার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মত দেবেন
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।
এই পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবে। না হলে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।
খসড়া আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই একইসঙ্গে গণভোট-অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।

